‘প্রশ্ন করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে, শুধু উত্তর খুঁজলে হবে না’

ছবি: আগামীর সময়
শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন ও তার উত্তর অনুসন্ধানের মানসিকতা তৈরি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।
আজ রবিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইতিহাস বিভাগের ২১তম ব্যাচের নবীন বরণ ও ১৬তম ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ড. মোহাম্মদ জকরিয়া বলেন, ইতিহাসের শিক্ষার্থীদের সমাজের পরিবর্তন, মানুষের জীবন ও সভ্যতার বিকাশসহ বিশ্বের সামগ্রিক বিষয় সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। বরং নতুন প্রশ্ন উত্থাপন এবং সেই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের মানসিকতা তৈরি করতে হবে। গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি করে জ্ঞানচর্চার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শহীদ কাদের চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম, অধ্যাপক ড. নাছির আহ্মাদ ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন অধ্যাপক ড. মোছা. খোদেজা খাতুন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. হাসান মফিজুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আউটকাম বেজড এডুকেশন (ওবিই) কারিকুলাম বাধ্যতামূলক করার পর ইতিহাস বিভাগই প্রথম এ কারিকুলাম প্রণয়ন করেছে। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২১তম ব্যাচের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে কোনো কোনো ব্যাচের ভর্তি কার্যক্রম তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত চলত। এতে মাইগ্রেশনসহ বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হতো।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে একই দিন ও সময়ে ক্লাস শুরু করা হচ্ছে এবং সমন্বিত একাডেমিক ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান উপাচার্য।
বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নতুন পথচলায় নিজেদের মেধা, যোগ্যতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ক্যারিয়ার গঠনে মনোযোগী হতে হবে। মানুষের জীবনের একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন কাজ করতে হবে, যার মাধ্যমে সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখা যায়।
ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে উপাচার্য বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস নির্মাণে নির্মোহভাবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বছরের পথচলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও শিক্ষার্থীদের অনেক মৌলিক চাহিদা এখনো পূরণ করা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ইতিহাস বিভাগের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো কৃতী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ‘রোল অব অনার’ প্রদান করা হয়। এ ছাড়া নবীন ও বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট দেওয়া হয়।
সমাপনী বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শহীদ কাদের চৌধুরী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাসের মধ্যে ইতিহাস বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রমে বেশ কিছু উন্নতি আনা হয়েছে। একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া, সেমিস্টার শেষ করা এবং ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বিভাগের সহকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই অনুষ্ঠানটি সফল করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সংগীত, নৃত্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।



