মহেশখালীতে চীনের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল হচ্ছে
- তেল আমদানির দরপত্র জমার মেয়াদ কমছে

সংগৃহীত ছবি
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে একই দিনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত হলো কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে চীনা কোম্পানির ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গুনভর ইউএসএ এলএলসি থেকে আগামী ১৩ বছর এলএনজি আমদানির উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানির সময়সীমা ৪২ দিনের পরিবর্তে আবারও ১০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মহেশখালীর কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ (এফএসআরইউ) টার্মিনাল স্থাপনের জন্য চীনের চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের প্রস্তাব সরকার টু সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬ এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
বর্তমানে মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালু রয়েছে। নতুন টার্মিনাল নির্মিত হলে দেশে এলএনজি গ্রহণ ও পুনঃগ্যাসীকরণের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অন্যদিকে, দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাস চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গুনভর ইউএসএ এলএলসি থেকে ২০২৬ থেকে ২০৩৯ সাল পর্যন্ত ১৩ বছর মেয়াদে প্রতি বছর ছয়টি এলএনজি কার্গো আমদানির প্রস্তাবেও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে পেট্রোবাংলা।
বর্তমানে বাংলাদেশ কাতার, ওমান, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাতটি দীর্ঘমেয়াদি জিটুজি চুক্তির আওতায় এলএনজি আমদানি করছে। নতুন এ চুক্তি কার্যকর হলে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও একটি উৎস যুক্ত হবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে জ্বালানি তেল আমদানিতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা আবারও ৪২ দিনের পরিবর্তে ১০ দিন নির্ধারণের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ের আমদানির ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
সরকারের মতে, দীর্ঘ সময়ের দরপত্র প্রক্রিয়ায় সরবরাহকারীরা আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যঝুঁকি বিবেচনায় অতিরিক্ত ঝুঁকি প্রিমিয়াম যোগ করে উচ্চদর প্রস্তাব করেন। সময়সীমা কমিয়ে আনলে প্রতিযোগিতামূলক দামে তেল কেনার সুযোগ বাড়বে এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে।
জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, একই দিনে নেওয়া এ তিন সিদ্ধান্তে সরকারের জ্বালানি কৌশলের নতুন দিক স্পষ্ট হয়েছে। একদিকে চীনের মাধ্যমে এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তেল আমদানিতে দ্রুত দরপত্র প্রক্রিয়া চালুর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ওঠানামার ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছে সরকার। এতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি, ক্রয়-ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।




