লটকনের ৩৫০ কোটি টাকার বাজার
- পেয়েছে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি
- মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে রপ্তানি হচ্ছে

লটকন ফল। ছবি: সংগৃহীত
সময়ের আবর্তে দিন পাল্টেছে নরসিংদীর লটকনের। একসময় ‘কদরহীন’ এ ফল পাওয়া যেত শুধু বনে-জঙ্গলে। ছিল না আর্থিক গুরুত্বও। এখন জেলার বেলাব ও শিবপুর উপজেলার যত্রতত্র দেখা যায় লটকনের বাগান। হেক্টরের পর হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে টক-মিষ্টি স্বাদের এ ফল। দেশের চাহিদা মিটিয়ে যা রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, জেলার ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পাওয়া লটকনের বাজার দাঁড়িয়েছে এখন অন্তত ৩৫০ কোটি টাকায়।
নরসিংদীর লটকন বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক অর্থকরী ফসল। জেলার বেলাব ও শিবপুর উপজেলায় ব্যাপক বাণিজ্যিক চাষের মাধ্যমে এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এই সুস্বাদু ফল মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে রপ্তানি হচ্ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অবদান রাখছে। লটকন চাষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার কৃষকের ভাগ্য বদলেছে, হয়েছে কর্মসংস্থান। অন্যান্য ফসলের তুলনায় লটকন চাষে খরচ কম এবং রোগবালাই কম হওয়ায় এটি একটি টেকসই কৃষি উদ্যোগ। নরসিংদীর লটকন ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই) হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা এর আন্তর্জাতিক চাহিদা ও কদর আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জেলার মাটি ও আবহাওয়া ফলটি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় এখানকার উৎপাদিত লটকন দেশের বাজারে ‘সেরা’ হিসেবে গণ্য হয়। প্রকার ও আকারভেদে প্রতি কেজি লটকন ৭০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়।
প্রতিদিন ভোর থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত জেলার ওপর দিয়ে যাওয়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশে লটকনের হাট বসে। রায়পুরার মরজাল ও বারৈচা এবং শিবপুরের চৈতন্যার লটকনের হাট সবচেয়ে বেশি জমজমাট। এসব হাটে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে অন্তত কয়েক কোটি টাকার লটকন। ট্রাকের পর ট্রাকে করে সারা দেশে ছড়িয়ে দেন পাইকাররা।
ব্যবসায়ী হযরত আলী ৪২ লাখ টাকায় একটি বাগান কিনেছেন এবং খরচ বাদে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।
আরেক ব্যবসায়ী ইকবাল হাসান বললেন, চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় ৫০ লাখ টাকার লটকন কিনেছেন। দুই মাস ধরে বাজারজাতকরণ কার্যক্রম চলবে এবং এতে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা আয় হবে বলে তিনি আশা করছেন।
নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আজিজল হক বলছেন, চলতি মৌসুমে জেলা জুড়ে লটকনের ফলন ও দাম ভালো পাবেন বলে আশা করছেন চাষিরা। বৃষ্টিও এ বছর ভালো হয়েছে। লটকন বিক্রি করে চাষিরা এ বছর ২০০ কোটি টাকা লাভবান হবেন। জেলায় উৎপাদিত লটকনের মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার টনেরও বেশি রপ্তানি হবে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।




