দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় হরমুজ প্রণালি ইস্যুই প্রধান

হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলছে দুই দেশের আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতি টেকসই করা, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করতে কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলছে পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র ও ইরানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার রাতে শুরু হওয়া এ আলোচনা বুধবারও অব্যাহত ছিল। আলোচনায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে দর-কষাকষি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেলেও গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) বাস্তবায়নই ছিল মূল লক্ষ্য।
আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে কাতার। এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে পাকিস্তানও। আলোচনা শুরুর পর কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। সেখানে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে উইটকফ ও কুশনার মূল কারিগরি আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন না।
দোহায় আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘খুব ভালোভাবে’ এগোচ্ছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ‘চমৎকার বৈঠক’ হয়েছে। তবে তিনি আবারও দাবি করেন, ইরানের হাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দেওয়া হবে না।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সমঝোতার ফলে শিথিল হয়েছে দেশটির ওপর আরোপিত কিছু আর্থিক ও বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ। তার ভাষ্য, এর ফলে তৈরি হয়েছে তেল রপ্তানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ।
বর্তমান আলোচনায় ইরানের প্রধান অগ্রাধিকার হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা এবং কাতারে আটকে থাকা ৬০০ কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড় করা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা।
দুটি জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুদ্ধের সময় ব্যাহত হওয়া এ নৌপথে জাহাজ চলাচল আংশিকভাবে শুরু হলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
এদিকে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযানের বিকল্প বিবেচনা করলেও আপাতত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পারমাণবিক চুক্তির জন্য নির্ধারিত ১৮ আগস্টের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও আলোচনা চালিয়ে যেতে তার আপত্তি নেই।
যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আলোচনা হচ্ছে বলে দাবি করলেও তা অস্বীকার করেছে ইরান। তেহরানের ভাষ্য, কাতারের মধ্যস্থতায় চলছে পরোক্ষ আলোচনা। এতে অংশ নিচ্ছে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদির নেতৃত্বে দেশটির প্রতিনিধিদল।




