রাখাইন সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিমান হামলা, আহত ৩

হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন। ছবি: সংগৃহিত
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বুথিডং ও মংডু এলাকায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। বুধবারের এ হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন। তাদের মধ্যে দুইজন শিশু। হামলায় ধ্বংস বা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ১০টি বাড়িঘর।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বুধবার সকাল ১০টার দিকে বুথিডং উপজেলার মুসলিম অধ্যুষিত ক্যেতমাউক তাউং গ্রামে দুটি ৫০০ পাউন্ড ওজনের বোমা ফেলে মিয়ানমার বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান এবং একটি পরিবহন বিমান। বিস্ফোরণে গ্রামজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছে তৃতীয় শ্রেণির ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সোয়ে দুল আমিন, ১২ বছর বয়সী মামাত আরোস এবং ৫০ বছর বয়সী উ আমিন হু সাউং। বিস্ফোরণে সোয়ে দুল আমিনের বাঁ উরুর হাড় ভেঙে যায়। মামাত আরোসের তলপেটে আঘাত লাগে এবং উ আমিন হু সাউংয়ের ডান ভ্রুর ওপরে গুরুতর জখম হয়। গুরুতর আহত শিশুটিকে দ্রুত নিকটস্থ একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টির কারণে তারা যুদ্ধবিমানের শব্দ শুনতে পাননি। ফলে কোনো ধরনের সতর্কতার সুযোগও ছিল না।
বোমা হামলায় অন্তত ১০টি মুসলিম পরিবারের বাড়ি ধ্বংস বা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আয়াতুল্লাহ, নুর ইসলাম, হাফসাবিবি, জাফর, শও শু আলম, সাও লিম এবং বোদি আলমের বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
একই দিন রাত ১০টার দিকে রাখাইনের বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন মংডু শহর ও আশপাশের এলাকাতেও ধারাবাহিকভাবে চালানো হয় বিমান হামলা। স্থানীয়রা বলছেন, তিন দফায় মোট ১৭টি বোমা নিক্ষেপ করে একটি যুদ্ধবিমান। প্রথম দফায় চারটি, দ্বিতীয় দফায় সাতটি এবং তৃতীয় দফায় ছয়টি বোমা ফেলা হয়।
এর আগে গত ২৪ জুন সকালে মংডু শহরে দুটি ৫০০ পাউন্ড ওজনের বোমা নিক্ষেপ করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। ওই হামলায় দ্বাদশ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী আহত হন এবং ১০টির বেশি হিন্দু পরিবারের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ছাড়া গত ১৭ জুন বিকেলে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বিমান হামলা চালানো হয় কিয়াউকতাও শহর, লানমাদাও গ্রামের সরকারি আবাসন, ক্লিনিক ও অস্থায়ী বাজারে। ওই হামলায় ১০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন এবং আরও ১৭ জন মাথায় গুরুতর আঘাত পান।




