ভূমিকম্পের মৃত্যুকূপে জীবনের আয়ু কতদিন?

ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছেন অনেককেই। ছবি: সংগৃহীত
ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকে বলা হয় ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বা সোনালী সময়। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের জীবিত উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। তবে অলৌকিক কিছু ঘটনাও ঘটে। নিখুঁত উদ্ধার তৎপরতা এবং কিছু বিশেষ নিয়ামকের ওপর ভিত্তি করে মানুষ এক থেকে দুই সপ্তাহ, এমনকি তার চেয়েও বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে।
বেঁচে থাকার প্রধান চালিকাশক্তি: পানীয় ও বাতাস
ধ্বংসস্তূপের নিচে একজন মানুষ কতক্ষণ টিকে থাকবে, তা মূলত তিনটি জিনিসের ওপর নির্ভর করে: বাতাস, জল এবং আঘাতের তীব্রতা।
অক্সিজেন: যদি কোনো ব্যক্তি এমন জায়গায় জড়ো হন যেখানে বাতাস চলাচলের ন্যূনতম সুযোগ আছে, তবে তার টিকে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
পানীয়: মানুষ খাবার ছাড়া কয়েক সপ্তাহ বাঁচতে পারলেও পানি ছাড়া সাধারণত ৩ থেকে ৭ দিনের বেশি বাঁচতে পারে না। তবে পরিবেশ যদি ঠান্ডা বা আর্দ্র হয়, এবং শরীর থেকে জল কম বার হয়, যা জীবনকাল কিছুটা বাড়িয়ে দেয়।
অলৌকিক কিছু বাস্তব উদাহরণ
ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, অলৌকিক জয় করে মানুষ দীর্ঘ সময় পরও ফিরে এসেছে।
২০১০ সালের হাইতি ভূমিকম্পের দীর্ঘ ১৫ দিন পর এক তরুণীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল।
২০১৩ সালে বাংলাদেশের সাভারে রানা প্লাজা ভবন ধসের ১৭ দিন (৪০৮ ঘণ্টা) পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অলৌকিকভাবে উদ্ধার করা হয়েছিল রেশমা বেগমকে। ৪ তলার একটি ফাঁকা জায়গায় তিনি আটকে পড়েছিলেন। সেখানে তার কাছে সামান্য কিছু শুকনো খাদ্য ও পানীয়জল ছিল, যা দিয়ে তিনি কিছুদিন টিকে থাকেন। শেষ দিকে জল ফুরিয়ে গেলে তিনি বৃষ্টির পানি ব্যবহার করে বেঁচে ছিলেন। তার এই উদ্ধার পাওয়া ও অলৌকিকভবে জীবিত থাকা যা বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল।
মানসিক শক্তি ও 'এয়ার পকেট’ এর ভূমিকা:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধসে পড়া ভবনের নিচে যদি কংক্রিটের স্ল্যাবগুলো একে অপরের ওপর আড়াআড়িভাবে পড়ে ছোট একটি ফাঁকা জায়গা বা 'এয়ার পকেট' তৈরি করে, তবে সেখানে দীর্ঘক্ষণ টিকে থাকা সম্ভব।
এর পাশাপাশি বড় ভূমিকা রাখে আটকে পড়া মানুষের মানসিক দৃঢ়তা। আতঙ্কিত হলে মানুষের হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, যা শরীর থেকে দ্রুত পানি ও শক্তি ক্ষয় করে। তাই শান্ত থাকা এবং ধৈর্য ধরে রাখাই জীবন বাঁচানোর মূল চাবিকাঠি।
লা গুয়াইরায় এখন সময়ের সাথে যুদ্ধ
ভেনেজুয়েলার লা গুয়াইরা রাজ্যে এখন উদ্ধারকারীদের প্রধান শত্রু সময়। যত সময় গড়াচ্ছে, আটকে পড়াদের বেঁচে থাকার আশা তত ক্ষীণ হচ্ছে। ৭৭টি বাসস্থান আংশিক বা পুরোপুরি মাটির সাথে মিশে গেছে। কংক্রিটের স্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষদের জীবিত ফিরিয়ে আনতে সময়ের সাথে তীব্র প্রতিযোগিতা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
তবে আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ধারকারী কুকুর এবং জীবন বাঁচানোর অদম্য ইচ্ছা হয়তো আরও কিছু মানুষকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনবে এই আশাতেই বুক বাঁধছেন নিখোঁজদের স্বজনেরা।
অনুবাদ: সম্রাট চক্রবর্তী, সংবাদদাতা






