আবর্জনার রাজত্বে ক্ষমতার বর্জ্য

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
প্রশাসক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা
জনাব, শুভেচ্ছা জানবেন। অতিসম্প্রতি জানতে পারলাম, আপনার মহাপরাক্রমশালী সাম্রাজ্যের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ‘বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র’ বা এসটিএসের (সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন) মূল অফিস দখল করে চলছে রমরমা ঠিকাদারি ও নিখাদ রাজনীতি। খবরটি পড়ে আমার এক অদ্ভুত নান্দনিক ও দার্শনিক অনুভূতির জন্ম হয়েছে।
দেশের রাজনীতিক ও ঠিকাদার ভাইদের প্রতিভার কোনো তুলনা হয় না। আমাদের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সৃজনশীল রাজনৈতিক সন্তানরা কোটি টাকার ঠিকাদারি আর ক্ষমতার ভাগাভাগির এক সুগন্ধি ড্রয়িংরুম বানিয়েছেন, যা অত্যন্ত সুচারুভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপের ওপর! বিধাতা যখন এই মর্ত্যের ক্ষমতা ও লোভের ব্যাকরণ লিখছিলেন, তখন বোধহয় ভাবেননি যে মাছি-ভনভন করা দুর্গন্ধের মহাসমুদ্রকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, এসি বসিয়ে এমন জৌলুশময় ক্ষমতার স্বর্গ বানানো সম্ভব। নর্দমার পাশেও নন্দনকানন তৈরি করা যায়, এই ‘বর্জ্যের অফিস’ তার জীবন্ত ইশতেহার।
এখানে ক্ষমতার বর্জ্য উৎপাদন প্রক্রিয়াজাত ও বণ্টনকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়
প্রথম প্রথম অবশ্য বোকার মতো ভাবছিলাম, ডেঙ্গু মশা আর বর্জ্যের ভাগাড় থেকে বাঁচতে বুঝি ওই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসের ভেতরে কোনো ‘মাস্টারপ্ল্যান’ তৈরি হচ্ছে। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি, ভেতরে তখন ‘কে কত পার্সেন্ট কমিশন পাবেন’ কিংবা ‘কার ওয়ার্ডে কার আধিপত্য থাকবে’— সেই মহাজাগতিক মাস্টারপ্ল্যানে মশগুল ওই পান্ডারা। প্লেটোর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে আদর্শ রাষ্ট্রের কথা বলা হয়েছিল, আর আমাদের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে তৈরি হয়েছে ‘বর্জ্যের রিপাবলিক’।
জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বর্জ্য ফেলার জন্য বানানো অফিস এভাবে গুটিকয়েক দখলদারের ব্যবসার আখড়া হওয়াটা যতটা না ট্র্যাজেডি, তার চেয়ে বড় কমেডি। বর্জ্যের অফিসে বসে যারা রাজনীতির নামে ক্ষমতার বর্জ্য উৎপাদন করছেন, তারা কি নিজেদের অস্তিত্ব ও কর্মকাণ্ডকেও ‘বর্জ্য’ মনে করেন? লজ্জা এবং নৈতিকতা শব্দ দুটি বাঙালির রাজনৈতিক অভিধান থেকে বহু আগেই ডাইনোসরের মতো বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ— যদি পারেন, এই ঠিকাদারি সিন্ডিকেটকে উচ্ছেদ করে অফিসটিকে তার মূল চরিত্রে ফিরিয়ে আনুন। আর যদি ক্ষমতার এই বর্জ্যকে উচ্ছেদ করতে আপনি অপারগ হন, তবে অফিসের সদর দরজায় একটি রাজকীয় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিন। যেখানে সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে:
‘এখানে ক্ষমতার বর্জ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বণ্টনকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।’
ইতি
নর্দমার পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক নগণ্য নগরবাসী




