গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট পুরোপুরি কাটাতে সময় লাগবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

কথা বলছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ছবি : আগামীর সময়
দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট স্থায়ীভাবে কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আজ শনিবার দুপুরে সিলেটের একটি হলরুমে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে এক কর্মশালা শেষে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেছেন, জ্বালানি সংকটের চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে সংকট থেকে বের হতে যতটুকু সময় প্রয়োজন, সেই সময় দিতে হবে। জ্বালানি টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন কূপ খনন, পাইপলাইন স্থাপন এবং নতুন ভাসমান এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের মতো অবকাঠামোগত উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়বে।
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, মালয়েশিয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে বড় জাহাজে এলএনজি এনে ছোট জাহাজে স্থানান্তর এবং পরে ভাসমান পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিটের মাধ্যমে তা গ্যাসে রূপান্তর করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এ ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, পেট্রোনাসের সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো বর্তমানে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকায় এই মুহূর্তে অতিরিক্ত জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও জ্বালানি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাই বিষয়টি সমাধানে কাজ করছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেছেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিটের একটিতে গ্যাস ভরা সম্ভব হয়নি। অন্যটির একটি বয়লার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গত পাঁচ থেকে দশ দিনে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে।
তবে এরই মধ্যে একটি ইউনিটে আবার গ্যাস ভরা শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, এর ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং সামনে আরও উন্নতি হবে। অন্য ইউনিটের একটি বয়লারও ঠিক হয়েছে। আরেকটি বয়লার মেরামতের কাজ চলছে। সেটিও ঠিক হয়ে গেলে দুটি ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস পাওয়া সম্ভব হবে। তখন প্রায় এক মাস আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া যাবে এবং শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ সরবরাহে চলমান সংকট অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শিল্প-কারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং বাসাবাড়িতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিগুলো সাফার করছে, বাসাবাড়িতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে—এর প্রত্যেকটি কথাই সঠিক। এখানে কোনো ভুল নেই।’
তবে বর্তমান পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদা মৌসুমভেদে বাড়ে-কমে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেছেন, গরমের সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকে। শীতকালে একই চাহিদা অনেকটাই কমে যায়।
তিনি আরও বলেছেন, বর্তমানে দৈনিক জ্বালানির চাহিদা সরবরাহের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বছরের এই সময়ে চাহিদা অন্যান্য মৌসুমের তুলনায় বেশি থাকায় সংকট আরও দৃশ্যমান হয়েছে।
অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বিনিয়োগ প্রয়োজন উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, বিনিয়োগ বাড়াতে জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা সরকারের রয়েছে। এ জন্য মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির চেষ্টা চলছে।
কৃষি প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, কৃষিক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য আগামী দিনের লক্ষ্য হবে কৃষিকাজ থেকে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক রিটার্ন নিশ্চিত করা। দেশের কৃষির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।







