সিরাজগঞ্জে এমপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এমপি আয়নুল হকের গাড়ি। ছবি: আগামীর সময়
হামলা হয়েছে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য আয়নুল হকের গাড়িতে। ভাঙচুর হয়েছে গাড়ির কাচ।
ঘটনাটি ঘটেছে আজ শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজার এলাকায়। তবে আয়নুল হক অক্ষত আছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আয়নুল হক দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ফেসবুক লাইভে এসে হামলার জন্য জামায়াত-এনসিপিকে দায়ী করেন। তিনি প্রশাসনের কাছে নিজের নিরাপত্তা ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের আটকের দাবি জানান।
এ খবর ছড়িয়ে পড়ায় উপজেলা জুড়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক ও ধানগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম খান বলেন, উপজেলায় কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের বিষয় নিয়ে আজ ধানগড়া বাজারে জরুরি মতবিনিময় সভা ছিল। সভাস্থলেই এ হামলা হয়।
‘বিকালে ৫টার দিকে মূলত কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কোথায় নির্মাণ করা হবে এটা নিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়। যেখানে অনেকেই এটাকে ধানগড়াতে চান, আবার কেউ চাইছেন চান্দাইকোনাতে। এরপর সবার কথা শোনার পরে সভায় এমপি বললেন, আমি একটা কমিটি করে দিব। সেই কমিটি সুপারিশ করবে এটা কোথায় করলে ভালো হয়,’ বলছিলেন বিএনপি নেতা রেজাউল করিম।
রেজাউল যোগ করেন, এমপি এটা বলার পরে একটা গ্রুপ দাবি করবেন প্রতিষ্ঠানটি যে ধানপগড়াতেই হবে সেই ঘোষণা দিয়ে যেতে হবে। এমপি তখন সেই ঘোষণা না দিয়ে সভা শেষ করে আসতে চাইলে জামায়াত-শিবির ও এনসিপির দেড় থেকে দুইশ নেতাকর্মী তাকে উদ্দেশ্য করে হামলা করেন। এসময় তার গাড়ির কাচ ভেঙে যায়।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির আলী মর্তুজা আগামীর সময়কে বলেন, কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কোথায় হবে এটা নিয়ে এমপির আজকের ওই আলোচনা সভায় আমাদের একজন নেতা ছাড়া আর কেউই ছিলেন না। আমি নিজেও ছিলাম না।
হামলার সঙ্গে জামায়াত-শিবির বা এনসিপি জড়িত নয় দাবি করে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি একপক্ষ চায় ধানগড়া এলাকায় হোক, আর এমপি সাহেবসহ অনেকেই চান উপজেলার চান্দাইকোনা এলাকায় হোক। এটি নিয়েই আজ তারা আলোচনা সভায় বসেছিলেন। সেখানে জামায়াতের একজন ব্যাতিত দ্বিতীয় কেউ ছিলেন না। হয়তো যারা প্রতিষ্ঠানটি ধানগড়া এলাকায় চান তারা এই হামলাটি করতে পারেন। তার মধ্যে বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষও থাকতে পারেন। কিন্তু এখন এর দায় আমাদের ওপরে চাপানো হচ্ছে, যেটা সত্য নয়।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান জানান, এমপি আঘাতপ্রাপ্ত হননি। তবে গাড়ির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো যাবে।







