কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার ও জামায়াত নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ, আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর

কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার ও জামায়াত নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ— সংগৃহীত
কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে গণঅধিকার পরিষদ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আজ শনিবার সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
জানা গেছে, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল হক নুরকে নিয়ে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার একটি বক্তব্যের প্রতিবাদে শনিবার বিকালে শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে গণঅধিকার পরিষদ। সমাবেশ থেকে এমপি আমির হামজাকে তার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
সমাবেশ শেষের দিকে পুলিশি প্রটোকলে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন এমপি আমির হামজা। তার গাড়িবহর ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ছোড়া ইটের আঘাতে আমির হামজার গাড়ির কাচ ভেঙে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এমপির গাড়িবহর ছয় রাস্তার মোড়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর উত্তেজনা চরমে ওঠে। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। এ সময় সংসদ সদস্যের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। তবে সন্ধ্যার দিকে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার বিষয়ে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক অভিযোগ করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে উসকানিমূলক আচরণ করে প্রতিপক্ষ হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, এমপি আমির হামজার মুখপাত্র নাজমুল হোসাইন এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, গণঅধিকার পরিষদের সদস্যরা এমপির গাড়িবহরে অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেছেন, ‘বিকাল থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ কঠোর অবস্থানে ছিল। এমপির গাড়িবহর ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’







