শেখ মুজিব হলের নামফলক থেকে মুছে যাচ্ছে ওসমান হাদির নাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের নামফলকে শহীদ ওসমান হাদি হল লেখাটি মুছে ফেলা হচ্ছে। ছবি: আগামীর সময়
প্রায় এক বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের নামফলকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লিখে দিয়েছিল একদল শিক্ষার্থী। তবে নাম পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় এই লেখা মুছে ফেলছে হল প্রশাসন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকালে হলটির নামফলক মুছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ লেখার কাজ চলতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে হলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রশাসনের উদ্যোগেই কাজটি হচ্ছে।
জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার এক বছর পর ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘জাতির জনক’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দ দুটি বাদ দিয়েছিল। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।
তার চার মাসের মাথায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর তার নামে হলটির নামকরণের দাবি আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে। ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদির মারা যাওয়ার পরদিন হল সংসদের নেতারা ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লিখে ব্যানার টানিয়ে দিয়েছিলেন।
পরদিন হলটির নামফলক থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে দেন একদল শিক্ষার্থী। একই সময়ে হলের ভেতরে থাকা শেখ মুজিবের দুটি গ্রাফিতিও মুছে ফেলা হয়। পরে হলের নামফলকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা হয়।
তখন এ উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতিফলন বলে দাবি করেছিলেন হল সংসদ ও ডাকসু নেতারা।
হলটির নাম পরিবর্তনের দাবিতে কয়েক মাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্দোলন, ওই হল সংসদের উদ্যোগ, ডাকসুর দাবিকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক ফোরামে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
চলতি বছরের ২৯ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। সেদিন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জানান, সিন্ডিকেট থেকে প্রস্তাবটি সিনেটে পাঠানো হলেও তখন নাম পরিবর্তনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ওই অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ কয়েকজন প্রতিনিধি। ইসলামী ছাত্রশিবিরের এই নেতারা শেখ মুজিব ও তার পরিবারের নামে থাকা স্থাপনাগুলোর নাম পরিবর্তনেরও দাবি জানিয়েছিলেন।
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ তখন বলেছিলেন, তাদের মূল দাবি ছিল হলটির বর্তমান নাম পরিবর্তন করা। কোন ব্যক্তির নামে নতুন নাম হবে, সেটিকে তারা একমাত্র বিষয় হিসেবে দেখছেন না।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে গিয়ে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নামটি আনুষ্ঠানিকভাবে বহাল থেকে যায়।



