চট্টগ্রাম দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটিকে ‘লালকার্ড দেখাচ্ছেন’ বিএনপির এমপিরা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সঙ্গে ‘বনিবনা হচ্ছে না’ স্থানীয় দলীয় সংসদ সদস্যদের। আহ্বায়ক কমিটির মূল নেতাদের বাইরে রেখে সংসদ সদস্যরা ডেকেছেন সমাবেশ। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন দক্ষিণের নেতারা। সংসদ সদস্যদের এ কর্মসূচিকে তারা সাংগঠনিক নিয়ম ও দলীয় শৃঙ্খলার ব্যত্যয় হিসেবে দেখছেন।
এ অবস্থায় সংসদীয় এলাকাগুলোসহ পুরো দক্ষিণের তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তবে নেতাকর্মীদের অনেকেই এ বিভক্তি নিয়ে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। তাদের মতে, সংসদ সদস্যদের সমাবেশ আহ্বানের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। যা দলের জন্য ক্ষতিকর।
নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও জনজীবনে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রতিবাদে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার কলেজ বাজারের এ জে চৌধুরী কলেজ মাঠে সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে। ‘দক্ষিণ চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিএনপি’ ব্যানারে এ সমাবেশ হবে। সমাবেশের পর বিক্ষোভ মিছিলও করার কথা আছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সরওয়ার জামাল নিজাম ও চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার একাংশ) আসনের জসিম উদ্দিন সমাবেশের মূল আয়োজক। তাদের সঙ্গে দুজন সংসদ সদস্য প্রার্থীও থাকার কথা রয়েছে। যারা নির্বাচিত হতে পারেননি। এরা হলেন, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সাংসদ নাজমুল মোস্তফা আমিন ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। তবে আজ বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি।
সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম আগামীর সময়কে বললেন, ‘আমরা দক্ষিণের এমপিরা সবাই একসাথে একটা মিটিং ডেকেছি। আমরা মনে করি বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের একটা সাংগঠনিক কর্মসূচি হওয়া দরকার।’
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন আগামীর সময়কে বললেন, ‘এমপি সাহেবরা একটা মিটিং ডেকেছেন বলে শুনেছি। তবে আমরা সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি অবগত নই। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা আছে প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাস, নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালনের। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় প্রোগ্রাম করতে পারতেন। কিন্তু তারা দক্ষিণ জেলা কমিটিকে না জানিয়ে একসঙ্গে যেভাবে সমাবেশ ডেকেছেন, সেটা সাংগঠনিক নিয়মের মধ্যে পড়ে না। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল।’
গতকাল মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর দোস্ত বিল্ডিংয়ে দলীয় কার্যালয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সভা হয়েছে। সভায় সংসদ সদস্যদের সমাবেশ আহ্বানের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এতে কমিটির শীর্ষ নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাল্টা সমাবেশ করার পক্ষেও মত দেন নেতাদের কেউ কেউ।
নাম প্রকাশে অনাগ্রহী দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির এক সিনিয়র সদস্য বললেন, ‘এমপি সাহেবরা সম্মিলিতভাবে আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এখানে সমস্যা হচ্ছে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের কোন্দল। আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইদ্রিছের বাড়ি পটিয়ায়। সেখানকার এমপি এনাম সাহেবের সঙ্গে উনার দূরত্ব আছে। হেলাল সাহেবের বাড়ি আনোয়ারায়। উনার সঙ্গে সরওয়ার জামাল নিজাম সাহেবের দূরত্ব আছে। সমাবেশের মাধ্যমে তারা আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে অনাস্থা দেখাতে চান।’
আহ্বায়ক কমিটির সভায় সংসদ সদস্যদের তুমুল সমালোচনা করা হয়েছে বলেও জানালেন এ নেতা। তিনি বললেন, ‘এমপিরা যেসময় যেখানে সমাবেশ করবেন, দক্ষিণ জেলার পক্ষ থেকে একইসময়ে পাল্টা আরেকটি সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে সেটা বোধহয় হচ্ছে না। আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের কেউ কেউ সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আছেন। আমি নিজেও সমাবেশে উপস্থিত থাকব।’
পাল্টা সমাবেশের বিষয়ে জানতে হেলাল উদ্দিন আগামীর সময়কে বললেন, ‘পাল্টাপাল্টি নয়। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) এমনিতেই আমাদের সমাবেশ করার কথা ছিল। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কৃষিকার্ড বিতরণ উদ্বোধনের একটা প্রোগ্রাম আছে। ঢাকায় সেটা হবে। সারাদেশ থেকে নেতাকর্মীরা অনলাইনে যুক্ত থাকবেন। চট্টগ্রামে হাটহাজারীতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আমরা সেখানে আমন্ত্রিত। সেজন্য দলীয় কর্মসূচি সম্ভব হচ্ছে না।’
সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম বললেন, ‘আমাদের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ নেই। দলের মধ্যেও কোনো বিরোধ নেই। কমিটির অনেক নেতাও আমাদের সমাবেশে থাকবেন।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইদ্রিছকে মোবাইলে কল করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে এড়িয়ে যান।
২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির পাঁচ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ৬ মে ৫৪ সদস্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ করা হয় সেই কমিটি। পটিয়ার সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে আছেন। আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহম্মদ হেলাল উদ্দীনের ঘরানার নেতা হিসেবে পরিচিত।




