জন্মদিনে সুকান্ত স্মরণ
ঝলসানো জীবনের কবি

সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৫ আগস্ট ১৯২৬ – ১৩ মে ১৯৪৭)। গ্রাফিক্স: আগামীর সময়
সবার মুখে মুখে ঘোরা একটি নাম অথচ এত অচেনা কবি কমই আছে আমাদের সাহিত্য দুনিয়ায়। আমরা তাকে মহান বানিয়েছি, বিপ্লবী বানিয়েছি কিন্তু সবই রাজনীতির গণ্ডির মধ্যে রেখে। এর বাইরে গিয়ে তাকে দেখতে নিষিদ্ধ করেছি নিজেদের। তার কবিতায় ঝলসানো রুটির আয়নায় গোটা বঙ্গীয় আর্থসামাজিক বাস্তবতা ধরা পড়েছে। সুকান্ত আর মানুষ থাকেননি, একটা রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হয়েছেন; মানুষ হিসেবে অচেনা।
এটা অনেক কবি-সাহিত্যিকের ক্ষেত্রে হয়। সাহিত্যের আড়ালে মানুষটাই হারিয়ে যায়। সে অর্থে আমরা তাকে আমাদের প্রয়োজনে নির্মাণ করি নিজের আয়নায়। সেই ধারার সবচেয়ে বেদনাদায়ক উদাহরণ আমার কাছে মনে হয়েছে সুকান্তকে।
আমরা রবীন্দ্রনাথকে মহামানব করেছি, যার পর্দার মায়াবী অন্তরালে তিনি হারিয়ে গেছেন কিন্তু তার সম্পর্কে আমরা অনেক কিছু জানি। মানুষ হিসেবে মাঝে মাঝে উঁকি দেন, আমাদের সুকপাল। রবীন্দ্র চর্চা একটি বড় সেক্টর, অনেকেই তাতে সক্রিয়, তাই অন্তত তার সুখ-দুঃখ, প্রেম-ভালোবাসা সম্পর্কে জানি।
একটু পেছনে আছেন নজরুল, যার সম্পর্কে অনেক কিছুই জানি, কিছু কিছু বিষয় জানি না বা জানতে চাই না। একটা সময় এসে তো নজরুলের জীবন থমকে গেছে যখন তার পিকস ডিজিজ হয়; যেটা স্বল্প বয়সে একধরনের ডিমেনশিয়া রোগ। তারপর তিনি নীরব কিংবদন্তিতে পরিণত হন।
ইদানীং জানা যাচ্ছে জীবনানন্দ সম্পর্কে, বিশেষ করে তার প্রেমিক জীবন ও সেই সম্পর্কিত জটিলতা নিয়ে। তাকে অবশ্য প্রেমের গণ্ডির বাইরে যেতে দেওয়া হয় না। তিনি প্রেম আর নিসর্গের কবি, রূপসী বাংলার কবি, বাঙালির আল্টিমেট নস্টালজিয়ার কবি।
এই প্রধান তিন কবি আমাদের, দু-একজন থাকতে পারে আরও। কিন্তু মোটা দাগে এরা তিনজনই আছেন। আর আছেন সুকান্ত, আমাদের সকল শুভ রাজনৈতিক চেতনার প্রতিচ্ছবি, সমাজ বদলে দিয়ে জনতার শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের কবি, বাঙালির প্রিয় ‘সবার জন্য দেশ’ স্লোগানের কারিগরের কবি। যেটা অনেক ‘মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদ’পন্থীরা দাবি করে তাদের বলে; যাদের সাথে ছিল কবি’র আজীবন সংযোগ।
এই সকল ভাবনার গ্যালারি সবচেয়ে সবল ছিল ৭০ দশকে বা আমাদের প্রজন্মের তারুণ্যের দশকে। একধরনের দায়িত্ব ছিল সব রাজনৈতিক সাংকৃতিককর্মীদের তাকে পছন্দ করার। তাছাড়া কজন আর টিবিতে মারা যায় ২০-২২ বছরে অমন ‘ঝলসানো’ কবিতা লিখে? সুকান্ত একধরনের ‘শহীদ’ তো বটেই।
তাই মনে হয় আমাদের মননে যে সুকান্ত নির্মিত রয়েছে সেটা আসলে আমাদের নিজেদের প্রতিচ্ছায়া ও আকাঙ্ক্ষার অবয়ব। সুকান্তের সামগ্রিক বাস্তবতা নয়। এই কারণে আমরা তার সামগ্রিক জীবন সম্পর্কে আদতেই এত কম জানি বা জানতে চাই। আর বামপন্থী গবেষকরা তো তার রাজনীতির ব্যাপারেই আগ্রহী হবে। সেই কারণেই অন্য কবিরা আছেন কিন্তু সুকান্তকে আমরা কিছুটা হলেও ঝলসে দিয়েছি নিজেদের রাজনৈতিক স্বপ্নের আগুনে, সে স্বপ্ন কি সফল হয়েছে? সুকান্তকে আমরা অচেনা মানুষে পরিণত করেছি।
দুই
কবি পরিণত বয়সে এসে মারা যাননি, তিনি একদিক থেকে অসুখের অপঘাতে মারা যান তরুণ বয়সে। তার সার্বিক জীবনে কোনো সুখ এসে কোথাও ঘর বাঁধেনি। সেদিক থেকে তার কষ্টের মৃত্যুটাও যেন তার জীবনের মতোই। সুকান্তর কবিতা পড়ে বোঝা যাবে না তার স্বাস্থ্যহীনতা ও রোগে মৃত্যু একপ্রকার অবধারিত ছিল। যে পরিবেশ ও অবস্থার মধ্যে তার জন্ম, বেড়ে ওঠা ও বসবাস, তাতে এটাই ছিল স্বাভাবিক।
তিনি একটি অসচ্ছল পরিবারে জন্ম নেন, তার পিতার দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে। কিন্তু সে মাকে তিনি হারান মাত্র ৬ বছর বয়সে অর্থাৎ তিনি বড় হন স্নেহের অভাব সাথে করেই।
যে মানুষটির সাথে তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল সেটি ছিল রানীদি, তার খুড়তুতো বোন যে তার নাম রাখে ‘সুকান্ত’। এটি মনিলাল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি গল্পের চরিত্র থেকে নেওয়া। রানীদি সুকান্তকে কবিতার সাথে পরিচিত করে ছোটবেলায়। তিনি খুব রবীন্দ্রভক্ত ছিলেন এবং তার কবিতা সুকান্তকে পাঠ করে শোনাতেন। সেই থেকেই তার কাব্যপ্রীতির জন্ম। অথচ তার মা ও রানীদি তার জীবনের দুই ভালোবাসার মানুষ, যারা তাকে নিরেটভাবে স্নেহ করতেন, তারা চলে যান, ওই শিশুকালেই। তার নিকটজন বড্ড কম ছিল দুনিয়ায়। এই কথা, এই কষ্ট তার বন্ধু অনির্বাণ বসুকে লেখা চিঠিতে পাওয়া যায়।
তার বাবার সাথে তার সম্পর্ক কোনোদিন ভালো ছিল না এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে আরও খারাপ হয়। তার বাবা ছিলেন এক মন্দ কপালী মানুষ, যার দুই স্ত্রীই স্বল্প দিন সংসার করে গত হন। তার বইয়ের ব্যবসা কোনোদিন দাঁড়ায়নি এবং মধ্যবিত্ত দারিদ্র তারা গোটা জীবনকে ধাবিত করে। তাই সুকান্ত যখন পরীক্ষায় খারাপ করে, মানে অর্থনৈতিক আগামী অনিশ্চিত হয়— তাদের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়। ভবিষ্যৎহীন, বেরোজগারী সুকান্ত ছিল তার বাবার কাছে নিজের মতোই এক ব্যর্থ মানুষ।
তিন
সুকান্তর দারিদ্র কোনো কাব্যিক মহিমার চাদরে জড়ানো ছিল না, এর দাম তাকে দিতে হয়েছে তার গোটা জীবন ও অসময়ের মৃত্যু দিয়ে। কমিউনিস্ট পার্টি থেকে তাকে সামান্য মাসোহারা দিত দলের ফ্যাসিবাদবিরোধী পত্রিকা সম্পাদনা আর কিশোরদের সংগঠন পরিচালনার জন্য। এটা ছিল খুবই অপ্রতুল। মাঝে মধ্যেই সুকান্ত আহার বাদ দিতেন কারণ টাকা থাকত না। এক আদর্শবাদী তরুণ মাঝেমধ্যেই সেই স্বল্প টাকা থেকেই তার চেয়ে অন্য কোনো দুস্থকে দিয়ে দিতেন, নিজে খেতেন না।
ফুল টাইম কর্মী হিসেবে চলার জন্য যে অর্থ দরকার সেটা পার্টির দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না। অতএব সাধারণ কর্মী ও সুকান্তের মতো পাতিনেতারা কীভাবে চলত তার খবর পার্টি জানলেও কিছু করার ছিল না। এটা আদর্শিক আয়নায় দেখা যায় কিন্তু এই পথ কোন গন্তব্যে পৌঁছায় সেটা ভাবা দরকার। এতে যে পার্টির কিছু লাভ হয়েছে তেমনটা বলা যায় কি? কিন্তু তাদের করার কি ছিল?
অনির্বাণ বসুকে লেখা চিঠিগুলি থেকে জানা যায় এই ফুল টাইম বিপ্লবী ইমেজ তাকে ক্লান্ত ও অসহায় করেছিল। কিন্তু কাকে বলবে? বলা মানে তো পার্টির সাথে, আদর্শের সাথে, নিজের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ও দুর্বলতা প্রকাশ করা। তাই সুকান্ত কোনো অভিযোগ করার কথা ভাবেননি। আদর্শের কাছে বলিদান মেনে নিয়েছেন আত্মসমর্পনের অংশ হিসেবে। এই কষ্টের কথা জানতেন কেবল তার দু-একজন নিকটজন।
চার
বছরের পর বছর পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা, রুজিহীনতা, কর্মসূত্রে দারিদ্র্য, সব মিলেমিশে তার দেহ ও স্বাস্থ্য থেকে দাম তুলে নেয় ইতিহাস ও জীবন। সুকান্ত পুষ্টিহীনতায় ভুগেছেন দীর্ঘদিন। মেঝেতে রাত্রিযাপনের মাঝে হয়তো আদর্শিক রোমান্টিকতা আছে কিন্তু এই জীবনযাপন তার তরুণ কিন্তু এরই মধ্যে ক্ষয়িষ্ণু দেহের যে ক্ষতি করেছে সেটা ১৯৪৪ সালে তার ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হওয়া থেকে বোঝা যায়। এটি একটি সামান্য অসুখ মনে হলেও বাস্তবে তার দুর্বল দেহের ওপর প্রবল আঘাত হানে।
দীর্ঘদিন ধরে স্বল্পাহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীবনযাপন, অস্থিরতা, মানসিক অশান্তি— সব মিলে মিছিল করেই তার দেহের ওপর আরও বড় এক আঘাত হানে এরপর। তখন সুকান্ত ফুল টাইম পার্টি সদস্য এবং তার দেহে টিবি ধরা পড়ে। এটি ট্র্যাজেডি ছিল না, এটি ঘটনাক্রমের কিছু নয়। এটা ছিল অবধারিত। ১৮-১৯ বছর পার হওয়া মানুষ হাসপাতাল বন্দি জীবন শুরু করলেন, তার শেষ বিছানায়।
যদি তার জীবনযাপন সব যাচাই করা যায়; তবে বোঝা যাবে তার শরীর যেন এই ক্ষয়রোগের কারখানা হয়ে গিয়েছিল বহুদিন আগেই। আর যাদবপুর হাসপাতালে তার শেষ ঠিকানা ছিল বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কারখানা।
টিবি রোগ ছোঁয়াচে, অতএব কেউ তার সাথে বেশি দেখাও করতে আসত না। যে মানুষটা সারাজীবন একা কাটালেন সে মৃত্যুশয্যায় আরও একা হলেন। যে মানুষের জীবনটা এত নিষ্ঠুর তার মৃত্যু কি স্বস্তির সংবাদ দেয় কাউকে? এভাবেই ছোট থেকে স্নেহহীনভাবে বেড়ে ওঠা মানুষটা তেমনই এক স্নেহহীন তারুণ্যহীন তরুণ জীবন কাটিয়ে রোমান্টিক বাঙালিকে কিছু কবিতা ও তার ক্ষয়রোগ থেকে মৃত্যুর প্রিয় রোমান্টিক লেজেন্ড উপহার দিয়ে মিলিয়ে গেলেন।
পাঁচ
কিন্তু সুকান্ত তো সমাজতন্ত্রের সৈন্য-কবি; যার জন্য জীবন উৎসর্গ করেন, সেই রাজনীতির কি হলো? হয়তো এটাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় বিমর্ষকর অধ্যায় ও পরিণতি। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ চলা কালেই সোভিয়েত ইউনিয়ন ইংরেজদের সঙ্গে হাত মেলায় নিজ স্বার্থে কিন্তু এই সংবাদ কেমন ছিল ভারতীয়দের কাছে, কেমন লেগেছিল তাদের সেটা আমরা কিছুটা উপেক্ষা করি। হঠাৎ করেই ভারতের প্রধান শত্রু ইংরেজকুল বামগোষ্ঠীর প্রধান বন্ধু হয়ে গেল। সরল একমাত্রিকভাবে বেড়ে ওঠা বামদের জন্য এটা ছিল বড় সংকট। পাবলিকের মাঝে যে আদর্শিক প্রতিচ্ছবি তারা তৈরি করেছিল সেটা প্রবল আঘাত পায়।
একই সাথে যে রাজনীতিকে তারা শ্রেষ্ঠ দাবি করছিলেন সেটার চেয়ে ‘জাতীয়তাবাদী’ রাজনীতি ভিত্তিক শ্রেণি দ্বন্দ্বের রাজনীতি অনেক সবল, সরলরৈখিক কমিউনিস্ট রাজনীতির তুলনায়, সেটা প্রমাণ হয়ে যায়। সেই সাথে সৃষ্টি হয় দুটি নতুন রাষ্ট্র যার কোনোটাই সুকান্তের আদর্শ ও রাজনীতি প্রসূত নয়। এটা ছিল তার জন্য ও অন্য অনেক বামদের জন্য এক বিপন্ন ও বিষন্ন বিষয়। আজকের বাম রাজনীতির হাল দেখলে সেই কষ্টটা আরও বাড়বে। এই পটভূমির আঙ্গিকেই তার কথিত শেষ কবিতাটি পাঠ করা উচিত। যে রোমান্টিক আনন্দ ভিত্তিক বেদনা নিয়ে ‘ঝলসানো রুটি’ পড়ি বা চোখ ভেজে ‘আহা বেচারা’ ভেবে, তার বাইরে এই কবিতা ও তার চিত্রকল্পের অস্তিত্ব নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না। আমার মনে হয়েছে এটি তার নিজের আত্মজীবনীর চিত্রকল্প, রাজনীতির কবিতার চেয়ে অনেক গুণ বেশি আত্মকেন্দ্রিক।
ক্রান্তিকালের কারিগর
২৯ জুলাই ২০২৬
ছয়
আমরা হয়তো মানতে কষ্ট পাই বা আমাদের মানসিকতার প্রশিক্ষণভিত্তিক পাঠের ভিত্তিতে কঠিন হয় তবে কোনো কবি যখন কবিতাকেই ‘আর কাব্য নয়’ বলেন; সেটা নিছক কাব্যিক ব্যাঞ্জনা নয়, অন্য কিছুও বটে। কবিতাই ছিল সব তার কাছে এবং সেই কাব্যের প্রতিপক্ষ ছিল গদ্য। একটি সুন্দর সুললিত কাব্যময় দুনিয়ায় গদ্য ছিল একধরনের নির্মিত ‘শত্রু’, একটি ‘কঠিন কুঠার’।
এটা সুকান্তের গোটা জীবনের অভিজ্ঞানের বিবরণ মনে হয়; কারণ কবিতা তার কাছে সাহিত্য ছিল না কেবল, ছিল তার প্রিয় রানীদির সাথে স্নেহের যে সেতু তার সোপান ও ভিত্তি। সে মানুষটি তাকে তার নাম দিয়েছিলেন, শিশুকালে প্রথম কবিতা শুনিয়েছেন, কবিতার কাছে হাত ধরে নিয়ে গেছেন সেটা ছিল তার পরিচয়। অর্থাৎ এই উচ্চারণ একটি জীবনের দারিদ্র ক্লিষ্ট বাস্তবতার নীরিখের চেয়ে তার নিজ জীবনের দীর্ঘ পরিধির পথচলা ও পরিমাপের উচ্চারণ।
যারা সুকান্তসমগ্র পড়েছেন তারা জানেন বাক-প্রতিমা নির্মাণের ক্ষেত্রে তিনি সাবধানী ছিলেন কিন্তু ‘পূর্ণিমা চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’ ভীষণ রেডিক্যাল এক চিত্রকল । বাংলা সাহিত্যে বেশি নাই, একটাও না থাকতে পারে। ৪০ দশকের কবিতা রাজনীতিভিত্তিক হলেও সুশীল চেহারার উদাহরণ ছিল নজরুল বা সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা। কিন্তু ওই অসুস্থ শরীরে মৃত্যুর নিকটে এসে সুকান্ত আর পার্টি কর্মী নেই, ব্যর্থ কর্মহীন সন্তান নেই, যে একটি রাজনৈতিক আদর্শ যা ইতিহাসের নাগাল পায়নি তার অনুসারী হবার আরও দরকার বোধ করেননি। সম্ভব নয় সবার জন্য মৃত্যুর চেহারা দেখে নিজের কথা ছাড়া কিছু বলা, তিনি পেরেছিলেন।
বাঙালি বিশেষ করে বাম পাঠকরা একে রাজনীতিভিত্তিক কবিতা বলতে পারেন কিন্তু কবিতাকে তো তিনি নিজেই ছুটি দিয়েছেন। তার নিজের প্রধান বাস্তবতাকে যখন ছুটি দেন তখন কি সেটা রাজনীতি না জীবনের শেষ সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে এক তরুণ— যার কোনো আগামী নেই, তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞানের উচ্চারণ কিনা সেটা পাঠকই বিচার করবেন।









