সালমান বেঁচে থাকলে হয়তো অকেজো হয়ে যেত : নীলা চৌধুরী

নীলা চৌধুরী। গ্রাফিক্স: আগামীর সময়
দেশের চলচ্চিত্রজগতের একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। সাড়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। তবে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সবাইকে কাঁদিয়ে পৃথিবী ত্যাগ করেন। তিনি আত্মহত্যা করেছেন, নাকি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন— সেই প্রশ্নের উত্তর অজানাই থেকে যায়। তবে সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের নির্দেশের পর গত বছরের ২০ অক্টোবর রমনা মডেল থানায় হত্যা মামলা হয়। সেই মামলায় খলনায়ক আশরাফুল হক ডন গ্রেপ্তার হওয়ায় ছেলে হত্যার বিচারে নতুন আশা দেখছেন মা নীলা চৌধুরী। এ বিষয়ে লন্ডন থেকে ফোনে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আগামীর সময়ের প্রতিবেদক মাসুদ রানা
প্রশ্ন : ছেলে হত্যার বিচার নিয়ে কতটুকু আশাবাদী?
নীলা চৌধুরী : আমি সবসময় আশাবাদী। আল্লাহ বলছেন বিশ্বাস রাখো, আমি মুসলমান হিসেবে বিচার পাব বলে আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখি। যেহেতু আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। তখন বিচারও হবে ইনশাআল্লাহ। বিচার কেউ আটকিয়ে রাখতে পারবে না। এবার আমি আশাবাদী।
প্রশ্ন : ২৯ বছর পর সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডন গ্রেপ্তারে আপনার কী মনে হয়?
নীলা চৌধুরী : ডনের গ্রেপ্তার আমি ইতিবাচকভাবে দেখছি। কিন্তু তাকে রিমান্ডে না নিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে। তাকে কেন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো না, সেটা সবার মনে দাগ কেটেছে। প্রথম দিন জিজ্ঞাসাবাদ করলে যে তথ্য পাওয়া যেত, এখন তো তেমন তথ্য আসবে না। তদন্তকারী কর্মকর্তা অসুস্থ থাকলে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত ছিল। দ্রুত সময়ে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু করা দরকার, রিমান্ডে আনা দরকার।
প্রশ্ন : বিগত সময় কেন বিচার পেলেন না, এর পেছনে দায় কার?
নীলা চৌধুরী : আওয়ামী লীগ সরকার চায়নি বলেই আমরা বিচার পাইনি। এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার এসেছে, আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। প্রত্যাশা করছি, এই সরকারের সময়ে বিচার হবে। বর্তমান জেনারেশন অনেক কিছু বের করে ফেলছে। তাদের আড়ালে রেখে বিচার বন্ধ করা যাবে না।
প্রশ্ন : বিচার চাওয়ায় কি কোনো হুমকি পাচ্ছেন?
নীলা চৌধুরী : হুমকি আগেও দিয়েছে। এখনো দেওয়া হচ্ছে। অনেকে আমাকে সাবধানে চলাফেরা করতে বলেছে। হুমকি থাকবেই, এটা থাকুক। এটা আমি ভাবি না। আমার আল্লাহ আছে, তিনি ভালো রাখবেন। হুমকির মুখে শুধু আমার লাইফ না; আমার ভাই আলমগীর হোসেন কুমকুম, তারপর যারা ভক্ত আছে তাদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের দেখা উচিত এবং যথাযথ অ্যাকশন নেওয়া উচিত।
প্রশ্ন : সামিরা হকসহ ১১ জন আসামি থাকলেও কেন তারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন না, কি মনে হয় আপনার?
নীলা চৌধুরী : আসামিদের তো দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আছে, কিন্তু ফাঁকফোকর দিয়ে পালিয়ে যেতে পারে। শুনেছি সামিরা পালিয়ে গেছে। ডনের কাছে তো সব চাবিকাঠি। সে তো অনেক কিছু জানে। বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে অবশ্যই সামিরার সঙ্গে কথাবার্তা বলে গেছে। ওদের (সামিরাদের) একটা ভয় আছে না যে, ডন গ্রেপ্তার হয়ে গেছে। এখন তো সবকিছু বের হবে যাবে। এখন অন্যদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কারণ এটা রাষ্ট্রীয় মামলা, কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
প্রশ্ন : হত্যার পেছনে কারা জড়িত ছিল বলে মনে হয়?
নীলা চৌধুরী : আগের সরকারের (আওয়ামী লীগ) লোকজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল, তাই বিচার না করে তাদের রক্ষা করেছে। সরকারের সঙ্গে আঁতাত করেই আমার ২৪ বছরের বাচ্চাকে হত্যা করা হয়। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, বিগত দিনের মতো যেন মামলাটি ধীরগতিতে পড়ে না থাকে। এখন মামলার বিচারে গতি বাড়ানো উচিত। সালমান শাহের ভক্তরা বিচার দেখতে চায়।
প্রশ্ন : সন্তানকে নিয়ে আপনার কোনো আক্ষেপ আছে?
নীলা চৌধুরী : আমার সন্তান পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। এই দুনিয়াতে থাকলে এতদিন সালমান শাহ হয়ে থাকত না। কারণ তারা ক্ষতি করে ফেলত। হয়তো দুনিয়াতে থেকেও সে অকেজো হয়ে যেত। আমি আল্লাহর কাছে বলছি, আমি তো পারছি না। আল্লাহ, তুমি সালমান শাহকে সাহায্য করো।
প্রশ্ন : এখন আপনার চাওয়া কী?
নীলা চৌধুরী : যেকোনো মূল্যে সামিরাসহ সব আসামিকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তাদের বিচার করতে হবে। তা ছাড়া আমার কোনো চাওয়া নেই।







