ডেমি মুরের সাক্ষাৎকার
মহাবিশ্ব আমার ডাকে সাড়া দিয়েছে

ডেমি মুর— ‘ল্যান্ডম্যান’ ও ‘দ্য সাবস্ট্যান্স’ সিনেমায়
প্যারামাউন্ট প্লাসের ‘ল্যান্ডম্যান’ ওয়েব সিরিজের দুটি সিজনে অভিনয় করেছেন আমেরিকান তারকা ডেমি মুর। সিরিজটি প্রসঙ্গে ৬৩ বছর বয়সী এ অভিনেত্রীকে প্রশ্ন করেছেন জনি হক
ডেমি, আপনাকে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। ‘ল্যান্ডম্যান’-এর দ্বিতীয় মৌসুমেও আপনার পারফরম্যান্স অসাধারণ লেগেছে। অভিনন্দন!
আচ্ছা, ধন্যবাদ।
‘ল্যান্ডম্যান’-এর দ্বিতীয় মৌসুমে আপনার অভিনীত ক্যামি মিলারকে পশ্চিম টেক্সাসে ক্ষমতা, চাপ এবং টিকে থাকার কঠিন বাস্তবতার মধ্যে পথ চলতে দেখা যাচ্ছে। এ চরিত্রের জগতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি আপনাকে সবচেয়ে আকৃষ্ট করেছে?
পোশাকের কথা বাদ দিলে (হাসি), সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল এমন একটি জগতে প্রবেশ করার সুযোগ, যেটা আমার কাছে একেবারেই পরিচিত ছিল না। বিশেষ করে ফোর্থ ওয়ার্ডে শুটিং করার সুযোগ পেয়ে দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে। এ ছাড়া ক্যামি মিলার চরিত্রের প্রতিটি দিকই আমার কাছে নতুন ছিল। যেমন তার উচ্চারণ, তার জীবনযাত্রার পরিবেশ।
নতুন কোন অভিজ্ঞতা আপনাকে সবচেয়ে আকৃষ্ট করেছে?
আমরা সবাই নিজেদের ছোট্ট পরিচিত জগতের মধ্যেই বাস করি। কিন্তু সেই গণ্ডি পেরিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সংস্কৃতির মধ্যে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার অভিজ্ঞতা সত্যিই বিশেষ। টেক্সাসের হিউস্টন শহরের ফোর্থ ওয়ার্ড খুবই আকর্ষণীয় একটি জায়গা। সেখানকার মানুষ প্রায়ই বলে, আপনি কোনো ক্যাফেতে ঢুকলে হয়তো দেখবেন পাশে তিনজন বিলিয়নিয়ার বসে আছেন কিন্তু তাদের দেখে বোঝার উপায়ই থাকবে না তারা কারা!
তরুণ বয়সে মনে হতো আমাকে কিছু একটা প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু সেটি নিজের কাছেই নিজেকে প্রমাণ করার বিষয় ছিল
শহরটি আর কোন দিক দিয়ে আলাদা?
সেখানে একটা সরল, মাটির কাছাকাছি জীবনধারা আছে। খুব একটা জাঁকজমকপূর্ণ নয়। কারণ শহরটির সঙ্গে তেলশিল্পের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সেখানে সত্যিকারের কাউবয় ও ঘোড়াপ্রেমী মানুষ বসবাস করে। আমি যেহেতু নিউ মেক্সিকো রাজ্যের মানুষ, তাই এ পরিবেশের অনেক কিছুই আমার পরিচিত ও আপন মনে হয়েছে।
আপনি হলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রী ছিলেন। ‘নিজেকে প্রমাণ করা’— এ বিষয়টি ক্যারিয়ারের এ পর্যায়ে এসে কীভাবে দেখেন?
আমার নিজের ক্ষেত্রে, এখন আর এটাকে সেভাবে দেখি না। হয়তো তরুণ বয়সে মনে হতো, আমাকে কিছু একটা প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু সেটি বাইরের মানুষদের কাছে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য নয়; বরং নিজের কাছেই নিজেকে প্রমাণ করার বিষয় ছিল।
‘ল্যান্ডম্যান’-এর প্রথম সিজন এবং ‘দ্য সাবস্ট্যান্স’ মুক্তি পেয়েছিল একই বছর। এ দুটি কাজকে ক্যারিয়ারের একটি নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে দেখেন?
অবশ্যই। জীবনের একটা পর্যায়ে এসে আমার মনে হয়েছিল, হয়তো আমার অভিনয়জীবনের অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে! কারণ এমন কোনো চরিত্র বা কাজ আসছিল না, যা আমাকে সৃজনশীলভাবে অনুপ্রাণিত করত বা নতুন চ্যালেঞ্জ দিত। তারপর মনে হলো, যেন মহাবিশ্ব ‘দ্য সাবস্ট্যান্স’-এর মাধ্যমে আমার ডাকে সাড়া দিয়েছে। এ চলচ্চিত্র শুধু আমাকে একটি নতুন পথই দেখায়নি, বরং মানুষকেও আমাকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। এখনকার সময়টা আমার কাছে খুবই আনন্দের। আমি কাজ করে ভীষণ আনন্দ পাচ্ছি। এখন এমন অনেক নতুন সুযোগ আসছে, যেখানে নির্দিষ্ট বয়সের নারীদের গল্প ও চরিত্রগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হচ্ছে।
কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই নিজেকে উন্মুক্ত রেখেছিলাম। সত্যি বলতে দেখতে চেয়েছিলাম মহাবিশ্ব আমাকে কোথায় নিয়ে যায়!
আপনার ক্যারিয়ার সত্যিই অসাধারণ আর এখন আপনার জীবনেরও দারুণ একটি সময় চলছে। ‘ল্যান্ডম্যান’-এর মতো একটি চরিত্র গ্রহণের সময় আপনার মানসিকতা কী ছিল?
খুব ইতিবাচক। আমার কাছে সবকিছুরই একটি ভারসাম্য আছে। যেমন আগে বলেছি, এটি একেবারেই ভিন্ন ধরনের ফরম্যাট, ভিন্ন মাধ্যম, কাজ করার সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতি— যা আগে কখনো করিনি। আমি ভাবলাম, এর চেয়ে ভালো সৃজনশীল দল আর কী হতে পারে! ‘দ্য সাবস্ট্যান্স’ আর ‘ল্যান্ডম্যান’ একে অপরের সম্পূর্ণ বিপরীত। কিন্তু আমার কাছে এগুলো একই চলমান যাত্রার দুটি ভিন্ন অংশ। যেন ধীরে ধীরে একটি বিশাল নকশিকাঁথা সেলাই করছি, যা শেষ পর্যন্ত একটি সুন্দরভাবে বেঁচে থাকা জীবনের গল্প হয়ে উঠবে।
কোনো কাজ সফল নাকি ব্যর্থ হবে— এ ভাবনা কি আপনাকে তািড়ত করে?
দিনের শেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— কোন কাজটি আমাকে আনন্দ দেয়। এর মানে এই নয় যে, সেখানে কোনো চ্যালেঞ্জ বা কঠিন সময় নেই। সেগুলো অবশ্যই থাকে। কিন্তু ‘ল্যান্ডম্যান’-এর মধ্যে এমন কিছু ছিল, যা আমাকে নিখাদ আনন্দ দিয়েছে। টেলর (নির্মাতা টেলর শেরিড্যান) আমাদের প্রথম সাক্ষাতের জন্য আমাকে টেক্সাসে নিয়ে গিয়েছিলেন। তখন কোনো চিত্রনাট্যই ছিল না। তিনি শুধু পুরো গল্পটি আমাকে বলেছিলেন। তারপর আমাকে শুধু একটি সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল— হ্যাঁ অথবা না। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘আমাকে বিশ্বাস করুন।’ তাকে বিশ্বাস করেছি। তারপর যেদিকেই এ যাত্রা যাক না কেন, কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই নিজেকে উন্মুক্ত রেখেছি, দেখতে চেয়েছি— মহাবিশ্ব আমাকে কোথায় নিয়ে যায়।
ডেমি, সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপনাকেও ধন্যবাদ।





