দ্বিগুণ ঝাঁজ কাঁচা মরিচে

কাঁচামরিচ
স্বস্তি নেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও মাংসসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম আগের মতোই চড়া। মৌসুমি কিছু সবজির দামে সামান্য স্বস্তি মিললেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে কাঁচা মরিচসহ কয়েকটি পণ্যের দাম।
কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতোই খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, নাজিরশাইল ৮২ টাকা, চিনিগুঁড়া ১৭০ টাকা, আর আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। অপরিবর্তিত রয়েছে ডালের দামও। প্রতি কেজি মসুর ডাল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা এবং মুগ ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।
কাঁচা মরিচের প্রতি কেজির দাম ঠেকেছে ১২০ টাকায়, যা গত সপ্তাহেও ছিল ৬০ টাকা। দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজিতে দাম ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। ৫ টাকা বেড়েছে আলুতেও, বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি করলা ৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৪০ টাকা, কাকরোল ৪০ টাকা এবং বেগুন বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়।
সবজি বিক্রেতা সাদ্দাম হোসেন বলেছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমদানি ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে প্রতিদিন দাম পরিবর্তন হয়। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সবজি পরিবহনে খরচ বেড়েছে, তাই দামও বেশি। তবে কিছু সবজির সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমেছে। বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় বেড়েছে কাঁচা মরিচসহ কয়েকটি পণ্যের দাম।’
এদিকে অপরিবর্তিত রয়েছে মাংসের বাজার। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা। আর ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা এবং কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। তবে মাছের দাম বেড়েছে কিছুটা। প্রতি কেজি রুই বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা দরে।
কারওয়ান বাজারে সবজি কিনতে আসা নাজনিন নাহার বলেছেন, ‘বাজারে স্বস্তি বলতে এখন আর কিছু নেই। বিশেষ করে সবজির দাম প্রতিনিয়ত ওঠা-নামা করে। সরকারের উচিত কৃষক থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত একটি যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া। তাহলে সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।’
আরেক ক্রেতা আহসান আলী বলেছেন, ‘আলুর দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। আগে ১৮০ টাকায় তেলাপিয়া মাছের কেজি কিনতাম, এখন কেজিতে ২০০ টাকারও বেশি দিতে হচ্ছে।’
ক্রেতারা জানালেন, নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে নিয়মিত বাজার তদারকি, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং অসাধু মজুদদারি ও কারসাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি। তা না হলে মৌসুমি পণ্যের দাম ওঠা-নামা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের চাপ থেকে সাধারণ মানুষের স্বস্তি মিলবে না।








