শাহজালাল মাজারে প্রথা ভেঙে গণনা, মিলল সাড়ে ১৭ লাখ টাকা

শাহজালাল (রহ.) মাজারের ডেগ ও দানবাক্সের টাকা গণনা চলছে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে। ছবি: আগামীর সময়
৭০০ বছরে এই প্রথম সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ডেগ ও দানবাক্স খোলা হলো প্রকাশ্যে। আজ সোমবার জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গণনা করা হয়েছে দানের অর্থ। গত ১৮ জুন সিলগালা করা তিনটি ডেগ ও নতুন স্থাপিত দানবাক্সে পাঁচদিনে জমা হয়েছে ১৭ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯ টাকা।
সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানালেন, জোহরের নামাজ শেষে বেলা প্রায় ২টার দিকে সিলগালা ডেগ ও দানবাক্স খোলা হয়। সবার সামনেই সেখান থেকে বস্তাভর্তি টাকা বের করে গণনার জন্য নেওয়া হয় নির্ধারিত স্থানে।
পুরো কার্যক্রমের তদারকিতে ছিলেন ‘মাজারকাণ্ডের জেরে’ সদ্য প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে গতকাল রবিবার সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে সংযুক্ত করা হয় মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে। গত বছরের আগস্টে পাথরকাণ্ডের পর সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি।
এই ১০ মাসে প্রশাসনিক বিতর্কে না জড়ালেও সম্প্রতি শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.) মাজারের দান ব্যবস্থাপনা সংস্কার করতে গিয়ে কোথাও আলোচিত কোথাও সমালোচিত হন এই কর্মকর্তা।
সিলেটের দুটি ঐতিহাসিক মাজারে প্রতিদিন হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী আসেন। দান করেন নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু এবং বিভিন্ন সামগ্রী। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দানের হিসাব, ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠলেও বিষয়টি কখনো কার্যকর প্রশাসনিক নজরদারির আওতায় আসেনি।
গত ১২ জুন শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান সদ্য প্রত্যাহার হওয়া এই ডিসি। দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
এর কয়েক দিন পর মাজারে মানতের টাকা সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত তিনটি ডেগ সিলগালা করে জেলা প্রশাসন। স্থাপন করা হয় নতুন দানবাক্স। ওই অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লা জানিয়েছিলেন, এখন থেকে ভক্তদের দেওয়া সব ধরনের দান প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকা দানবাক্সে জমা হবে। দানবাক্সগুলোর নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয় আনসার সদস্যও।
তবে প্রশাসনের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয় মাজারের খাদেমদের একটি পক্ষ। দান ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে প্রচলিত ব্যবস্থার পক্ষে বক্তব্য দেন তারা।
এই বিরোধিতার মধ্যেই ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হলো। প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ না করা হলেও এর পেছনে মাজারকাণ্ড বলেই পোক্ত ধারণা সংশ্লিষ্টদের।





