দক্ষিণ কোরিয়া
তীব্র দাবদাহে এসি মিস্ত্রিদের দম ফেলার ফুরসত নেই

এসি ঠিক করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দক্ষিণ কোরিয়ার টেকনেশিয়ানরা। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ কোরিয়ায় নজিরবিহীন ও দীর্ঘস্থায়ী তাপদাহের কারণে এসি মেরামতের মন্দা মৌসুম হিসেবে পরিচিত আগস্টে এবার উল্টো তৈরি হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ কাজের চাপ। সিউলসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছানোয় বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বেড়েছে এসির ব্যবহার। একই সঙ্গে বাড়ছে যন্ত্র বিকল হওয়ার ঘটনাও। ফলে গভীর রাত পর্যন্ত গ্রাহকদের ফোনে ছুটতে হচ্ছে এসি টেকনিশিয়ানদের।
সিউলের জুং-গু থেকে ক্যাংনাম ও গ্যাংডংসহ বিভিন্ন এলাকায় টানা কাজ করছেন এসি মেরামতকারীরা। এতে আয়ও বেড়েছে তাদের। সাধারণত আগস্টে গরমের শেষ দিকে নতুন করে এসি মেরামত না করে ফ্যান ব্যবহার করেই দিন কাটান গ্রাহকেরা। কিন্তু চলতি আগস্টের তীব্র দাবদাহে সেই চিত্র বদলে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে এসি ঠিক করাতে গভীর রাতেও টেকনিশিয়ানদের ফোন করছেন অনেকে।
৩৬ বছরের এসি টেকনিশিয়ান ও ডে-রিওং জানান, আগে আগস্টে দিনে সর্বোচ্চ ১০টি মেরামতের অনুরোধ পাওয়া গেলেও এখন প্রতিদিন গড়ে ৩০টির বেশি ফোন আসছে। চাহিদার তুলনায় জনবল ও সময় কম থাকায় প্রতিদিন গড়ে ১৫টির মতো কাজ শেষ করতে পারছেন তিনি।
এ টেকনিশিয়ান আরও বলেন, সম্প্রতি সিউলের গ্যাংডং-গুর ছেনহো-দংয়ের বাসা থেকে সকাল ৮টায় বের হয়ে গ্যাংনামের আবগুজেওং-দং, ইওকসাম-দং এবং জুং-গুর সংগু-দংসহ প্রায় ১০টি এলাকায় গিয়ে এসি মেরামত করতে হয়েছে। কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরতে রাত ১২টা বেজে যায়। ওই দিন সিউল শহরের মধ্যেই প্রায় ১০০ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়েছেন তিনি। এতে তার দৈনিক আয় ১০ লাখ ওনেরও বেশি হয়েছে।
বিশেষ করে বাণিজ্যিক ভবন ও আবাসিক ভিলার জটিল আউটডোর ইউনিট মেরামত করে বাড়তি আয় করছেন টেকনিশিয়ানরা। তবে এ কাজের ঝুঁকিও কম নয়। ভবনের ছাদে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। এতে তিনি ও তার সহকর্মীরা শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মাথাব্যথায় ভুগছেন। তারপরও এই মৌসুমকে আয়ের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন এসি টেকনিশিয়ানরা।
ও ডে-রিওং জানান, দীর্ঘ সময় ধরে আউটডোর ইউনিটের ফ্যান, কম্প্রেসর বা ভেতরের গ্যাস লিক মেরামতের পর ঘরে ঠান্ডা বাতাস ফিরে এলে গ্রাহকদের মুখে স্বস্তি দেখা যায়। প্রচণ্ড ক্লান্তির মধ্যেও সেই মুহূর্ত কাজের বড় তৃপ্তি এনে দেয়।
তীব্র দাবদাহের কারণে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসি মেরামতের এই বাড়তি চাহিদা ও ব্যস্ততা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন এ খাতের সংশ্লিষ্টরা।





