এনসিটির পর সিসিটিও যাচ্ছে বিদেশিদের হাতে

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম বন্দরের আরেক গুরুত্বপূর্ণ চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দিচ্ছে সরকার। সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)কে অপারেটর হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছে সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দিয়ে পরিচালনা চূড়ান্তের পর এই টার্মিনালটিও বিদেশি অপারেটরের হাতে দিচ্ছে সরকার।
চট্টগ্রাম বন্দরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল সিসিটি দিয়ে মোট কনটেইনার ওঠা-নামার ২০ শতাংশ হয়। বন্দরের মূল জেটির এনসিটির পাশেই সিসিটির অবস্থান। এর পাশেই নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
সৌদি আরবভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী আরএসজিটি দুবছর আগে বোট ক্লাবের পাশে থাকা পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা পেয়েছে। এই টার্মিনাল বন্দর নিজ খরচে বানিয়েছে। উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই কনসেশন চুক্তিতে টার্মিনাল পরিচালনা কাজ আরএসজিটিকে দিয়েছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। ২০২৪ সাল থেকে সেটি পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এই টার্মিনাল দিয়ে বন্দরের মোট কনটেইনার ওঠা-নামার ২ শতাংশ হওয়ার কথা। আর সিসিটি পরিচালনার দায়িত্বও পাচ্ছে একইভাবে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই।
সিসিটি তাদের হাতে এলে মোট কনটেইনার ওঠা-নামার ২২ শতাংশ আরএসজিটির নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বর্তমানে সিসিটি দেশীয় অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড পরিচালনা করে আসছে। আর এনসিটি পরিচালনা করছে নৌবাহিনী পরিচালিত জাহাজ মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাইডক। কাগজে-কলমে চট্টগ্রাম ড্রাইডক থাকলেও মূলত সাইফ পাওয়ারটেকের লোকবল দিয়েই এনসিটি পরিচালিত হচ্ছে।
এনসিটি সিসিটি বিদেশি ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে আন্দোলন করছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ স্কপসহ বন্দরভিত্তিক বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। প্রতিবাদে শনিবার চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। একই দিন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি। আগামী ৫ অক্টোবর আগে থেকেই চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে চট্টগ্রাম বন্দরে অস্থিরতার শঙ্কা করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে জানালেন, সরকার জাতিকে অন্ধকারে রেখে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছি। মামলা-জুলুমের শিকার হয়েছি, থামিনি। সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর আমাদের প্রতিবাদ সমাবেশ থেকেও বলেছিলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও নৌপরিবহন মন্ত্রীর সঙ্গে আমরা আলোচনা করতে চাই। সেই সুযোগ পর্যন্ত আমাদের দেওয়া হয়নি। এখনো সময় ও সুযোগ আছে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার।
শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) নেতা ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার সরকারের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানান। তার ভাষ্য, 'সিদ্ধান্ত বাতিল করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করছি। আর শনিবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।'




