শেয়ারদর বাড়াতে বিনিয়োগকারীদের চাপে কোরিয়ার দুই চিপ নির্মাতা

বিনিয়োগকারীদের চাপে দক্ষিণ কোরিয়ার দুই চিপ নির্মাতা। ছবি: সংগৃহীত
দ্বিতীয় প্রান্তিকে রেকর্ড আয় করার পর শেয়ারদর বাড়াতে বড় অঙ্কের ‘শেয়ারহোল্ডার রিটার্ন’ ঘোষণা দেওয়ার চাপে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ দুই সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স ও এসকে হাইনিক্স। গত জুনে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর কোম্পানি দুটির শেয়ারদর যথাক্রমে ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ ও ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। এ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের লভ্যাংশ বা মূলধন ফেরতের ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বী চিপ নির্মাতাদের তুলনায় কোরিয়ান কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ নীতি তুলনামূলক রক্ষণশীল। এ কারণে কোম্পানি দুটির শেয়ারের প্রকৃত মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
কেবি সিকিউরিটিজের তথ্য অনুযায়ী, স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স শিগগিরই ১০০ ট্রিলিয়ন থেকে ২০০ ট্রিলিয়ন ওনের একটি বড় শেয়ারহোল্ডার রিটার্ন পরিকল্পনা ঘোষণা করতে পারে। এই অর্থ কোম্পানিটির বর্তমান ৯ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ওনের নিয়মিত বার্ষিক লভ্যাংশের তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি।
অন্যদিকে, এসকে সম্প্রতি ২৭৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ওনের ত্রৈমাসিক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে হাইনিক্স। পাশাপাশি তৃতীয় প্রান্তিকে বিশেষ লভ্যাংশ, শেয়ার পুনঃক্রয় ও বাতিলের মাধ্যমে মোট ১০০ ট্রিলিয়ন ওনের একটি রিটার্ন প্যাকেজের ইঙ্গিতও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
জাপানের কিওক্সিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মাইক্রনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ফ্রি ক্যাশ ফ্লোর বড় অংশ বা পুরোটা লভ্যাংশ হিসেবে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের জন্য তৈরি হয়েছে শেয়ারহোল্ডার রিটার্নের একটি শক্তিশালী মানদণ্ড। বিপরীতে কোরিয়ান চিপ নির্মাতারা এখনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ না দেওয়ায় বাজারে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
তবে শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বড় অঙ্কের নতুন মূলধনী বিনিয়োগ, কর পরিশোধ এবং কর্মীদের বোনাস নির্ধারণের মতো বিষয় রয়েছে। ফলে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি রিটার্ন পরিকল্পনা দ্রুত ঘোষণা করা কোম্পানি দুটির জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।





