ব্রিটিশ জেল খালি করতে বিদেশে বন্দি পাঠানোর প্রস্তাবে অ্যামনেস্টির আপত্তি

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ কারাগারে জায়গা সংকট মোকাবিলায় বিদেশি দণ্ডিতদের এল সালভাদরসহ অন্য দেশের কারাগারে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকে। দলটির নেতা নাইজেল ফারাজের এ প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। মানবাধিকার সংগঠনটির অভিযোগ, এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ব্রিটিশ করদাতাদের অর্থ এমন একটি কারাব্যবস্থায় যাবে, যেখানে নির্বিচার আটক, মারধর, নির্যাতন, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা এবং হেফাজতে মৃত্যুর মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকের শরণার্থী ও অভিবাসী অধিকারবিষয়ক পরিচালক স্টিভ ভালদেজ-সাইমন্ডস রিফর্ম ইউকের পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেছেন, ব্রিটেনের কারাগার সংকটের বাস্তবসম্মত সমাধান খোঁজার পরিবর্তে এমন প্রস্তাব ‘ঘৃণা, সহিংসতা ও অমানবিকতার রাজনীতি’কে উসকে দেয়। তার প্রশ্ন, মানবাধিকার নিয়ে গুরুতর অভিযোগ থাকা কোনো বিদেশি কারাব্যবস্থাকে অর্থ দিয়ে ব্রিটেন কী ধরনের নজির তৈরি করবে?
রিফর্ম ইউকে সোমবার (১০ আগস্ট) লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরে প্রস্তাবটি। দলটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্রিটিশ কারাগারে থাকা বিদেশি দণ্ডিতদের প্রথমে নিজ নিজ দেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হবে। সংশ্লিষ্ট দেশ তাদের নিতে অস্বীকার করলে এল সালভাদর, কসোভো কিংবা অন্য কোনো দেশের কারাগারে জায়গা ভাড়া করে সেখানে তাদের বাকি সাজা কাটানোর ব্যবস্থা করা হবে। এল সালভাদরের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য দেশটিতে যাওয়ার পরিকল্পনাও করছে রিফর্ম ইউকের একটি প্রতিনিধিদল।
রিফর্ম ইউকে মানবাধিকার নিয়ে ওঠা আপত্তি মানতে নারাজ। দলের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ জানান, এল সালভাদরের কারাগার কোনো ‘গ্রীষ্মকালীন ছুটি’ হবে না। তবে সেখানে বন্দিদের সঙ্গে নিষ্ঠুর বা অযৌক্তিক আচরণ করা হবে, এমনটিও তারা মেনে নেবেন না। ফারাজের দাবি, বিদেশে একজন বন্দিকে রাখার খরচ ব্রিটেনের তুলনায় অনেক কম হতে পারে।
প্রস্তাবটির কেন্দ্রে রয়েছে মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদর। দেশটির প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলের কঠোর অপরাধবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উচ্চনিরাপত্তার কারাগার তৈরি করা হয়েছে সেখানে। সরকার অপরাধ দমনে সাফল্যের দাবি করলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দেশটিতে হাজার হাজার মানুষকে আটক, বিচারিক সুরক্ষা সীমিত করা এবং বন্দিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে।
অ্যামনেস্টির মতে, এমন মানবাধিকার রেকর্ড থাকা একটি দেশের সঙ্গে ব্রিটেনের বন্দি স্থানান্তর চুক্তি হলে বন্দিদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠবে। সংগঠনটির আপত্তি শুধু কারাবন্দিদের খরচ বা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নয়। তাদের মূল প্রশ্ন, কারাগারে জায়গার সংকট মেটাতে গিয়ে ব্রিটেন এমন কোনো ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে পারে কি না, যার মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
ব্রিটেনে বর্তমানে কারাগারে জায়গা সংকট নিয়ে চলছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। কিছু বন্দির আগাম মুক্তির নিয়ম পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। এর বিপরীতে বিদেশি দণ্ডিতদের দেশের বাইরে পাঠানো এবং নতুন অস্থায়ী কারাগার তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে রিফর্ম ইউকে।
ফলে ব্রিটিশ কারাগারের জায়গা সংকটের এই বিতর্ক এখন শুধু কারা ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বন্দিদের কোথায় রাখা হবে, সেই প্রশ্নের সঙ্গে মানবাধিকারও যুক্ত হয়েছে। অ্যামনেস্টির আপত্তির পর ফারাজের পরিকল্পনা এখন মানবাধিকার, বন্দিদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছে।




