কাপাসিয়ায় ৩ মাদ্রাসায় সবাই ফেল, উপজেলায় পাসের হার ৫৩.৪৪%

ছবি: আগামীর সময়
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এবারের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে তিনটি মাদ্রাসায় কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটি তিনটি হলো মেরুয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা, ইকুরিয়া সিরাজিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসা ও পাঁচুয়া দারুচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানগুলোর ৩০ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও একজনও পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেরুয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা থেকে ১৮, ইকুরিয়া সিরাজিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৬ এবং পাঁচুয়া দারুচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৬ জন দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। তিন প্রতিষ্ঠানেই পাসের সংখ্যা শূন্য।
অর্থাৎ, তিন মাদ্রাসার ৩০ পরীক্ষার্থীর ৩০ জনই ফেল করেছে। একটি প্রতিষ্ঠানেও কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ না হওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম ও ফলাফল পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
১১৬০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল ৫৪০
এবার কাপাসিয়া উপজেলায় মোট ১ হাজার ১৬০ শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৬২০ জন পাস করেছে এবং ৫৪০ জন ফেল করেছে। উপজেলায় পাসের হার ৫৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
পরিসংখ্যান বলছে, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় ফলাফল নিয়ে অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে নজরদারি ও পাঠদানের মান নিয়ে
একটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষক সংকট, পাঠদানের মান, পরীক্ষার প্রস্তুতি, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন এবং প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক তদারকি— সবকিছুই ফলাফলের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তবে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী ফেল করার ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ফলাফল হিসেবে দেখার সুযোগ আছে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিশেষ করে আগের বছরগুলোর ফলাফল, পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা, বিষয়ভিত্তিক ফলাফল এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত বিশ্লেষণ করলে প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ খুঁজে বের না করে শুধু ফল প্রকাশে সীমাবদ্ধ থাকলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা করা দরকার।
কাপাসিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল আরিফ সরকার দাখিল পরীক্ষার ফলাফলের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এখন দেখার বিষয়, শূন্য পাস করা তিন মাদ্রাসার ফলাফল কেন এমন হলো এবং আগামী শিক্ষাবর্ষে ফল উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়।





