মলিন মাইলফলক রঙিন করেন মমিন

মাইলফলকের পাশের ঝোপ পরিষ্কার করছেন আব্দুল মমিন
রাস্তার পাশের ধুলোবালিতে ঢাকা মাইলফলক দেখলেই থমকে দাঁড়ান আব্দুল মমিন (২০)। তার ব্যাগে থাকা ব্রাশ আর পানির বোতল বের করে শুরু করেন পরিষ্কারের কাজ। এভাবে মলিন মাইলফলক ধুয়েমুছে ঝকঝকে করে তুলছেন। এক বছর ধরে এ কাজ করে যাচ্ছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের শমসেরনগর পাঠকপাড়া গ্রামের এই তরুণ। মমিন বিস্কুট কারখানায় কাজ করে সংসার চালান। বয়স কুড়ি হলেও বাবার অসুস্থতায় তাকে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে। সংসারে অভাব থাকলেও মানবিক কাজে নিজেকে এগিয়ে রেখেছেন তিনি।
সপ্তাহে ছয় দিন কারখানার কাজ শেষে এক দিন ছুটি মেলে মমিনের। ওইদিন নেমে পড়েন মানবিক কাজে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার রাস্তার পাশের আবর্জনা ও মাইলফলক পরিষ্কারের কাজ করছেন তিনি। কোনো পারিশ্রমিক বা পুরস্কারের আশায় নয়, মানুষের উপকার করার ইচ্ছায় তিনি এসব কাজ বেছে নিয়েছেন।
কল্যাণমুখী কাজের জন্য স্থানীয়দের কাছে মমিন এখন পরিচিত মুখ। জেলার বিভিন্ন সড়কে প্রায়ই দেখা যায় তাকে। কখনো রাস্তার দুই পাশের আগাছা কেটে চলাচলের পথ নিরাপদ করছেন, আবার কোথাও রাস্তার ধুলোয় ঢাকা মাইলফলক পরিষ্কার করছেন। রাস্তার খানাখন্দ মাটি দিয়ে ভরাটের কাজও করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, দরিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করেও মমিন মানুষের সেবায় নিয়োজিত। যখনই সময় পান তখনই নেমে পড়েন মানবিক কাজে।
আব্দুল মমিনের ভাষায়, ‘আগে ভ্যান চালাতাম। কিছুদিন ধরে বিস্কুট কারখানায় কাজের টাকায় আমার সংসার চলছে। কাজের ফাঁকে যখন একটু সময় পাই, তখন মানুষের উপকার হয়- এমন কিছু করার চেষ্টা করি। এরই ধারাবাহিকতায় মাইলফলক পরিষ্কার, রাস্তা পরিষ্কার ও রাস্তার খানাখন্দ ভরাটের কাজ করি।’ ‘এসব কাজে আমি আনন্দ পাই। তবে মাঝেমধ্যে কারও কারও কটু কথায় মন খারাপ হয়। এর মধ্যেও যতদিন আল্লাহ সামর্থ্য রেখেছেন, ততদিন এই কাজ করতে চাই’— যোগ করেন মমিন।
তার বন্ধু শাহিদ (২০) জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই নিজের উদ্যোগে মমিন এমন কল্যাণমূলক কাজ করে আসছেন। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সহায়তা ছাড়াই স্বেচ্ছাশ্রমে জনস্বার্থে তিনি এসব কাজ করেন। তার এই উদ্যোগে এলাকার মানুষ যেমন উপকৃত হচ্ছেন, তেমনি অন্যরাও হচ্ছেন অনুপ্রাণিত।
ছেলের উদ্যোগের প্রশংসা করে মমিনের বাবা মোতালেব হোসেন বলেছেন, ‘আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই মানুষের উপকার করতে ভালোবাসে। সংসার চালানোর জন্য কঠোর পরিশ্রম করে, তারপরও মানুষের জন্য সময় বের করে। বাবা হিসেবে এতে আমি গর্ববোধ করি। আল্লাহ যেন ওর ভালো কাজ কবুল করেন।’
ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. শাহিনের ভাষ্য, দরিদ্র পরিবারের হলেও মমিন নিজের খরচে সমাজসেবামূলক কাজ করে যাচ্ছে, যা খুবই ইতিবাচক। তরুণরা এভাবে এগিয়ে এলে দেশ এগিয়ে যাবে।




