ঢলের বালুতে ঢেকেছে আমনের ক্ষেত

‘হামার ঘরবাড়ি তো নদীর প্যাটোত চলি গেইচে, এ্যালা থাইকপার জাগা নাই। আশা আছিল, আমন ধান কাটি ফির (আবার) ঘর তোলমো। সেই ধানের ক্ষ্যাতও বালার (বালুর) তলোত চাপা পড়চে, এ্যাকনা ধানও হবার নয়। হামারগুলার মরণ ছাড়া কোনো বুদ্দি (উপায়) নাই।’ স্বপ্নের আমন ধানের ক্ষেত বালুর নিচে ঢাকা পড়ায় এভাবে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন রংপুরের গঙ্গাচড়ার নোহালী ইউনিয়নের চরবাগডোহরা এলাকার কৃষক তাইজুল ইসলাম। শুধু তিনিই নন, তিস্তায় উজানের ঢলে আসা বালুতে ঢাকা পড়েছে দুটি চরের অন্তত তিন শতাধিক কৃষকের রোপা আমনের ক্ষেত। গঙ্গাচড়ার বড়াইবাড়ী খেয়াঘাট থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তরে দুর্গম চরবাগডোহরা। ইঞ্জিনচালিত নৌকায় প্রায় ১ ঘণ্টার পথ।
সরেজমিনে গতকাল রবিবার ওপারের খেয়াঘাটে নেমে দেখা যায়, বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বসতভিটা পড়ে থাকলেও আতঙ্কে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে নদীপাড়ের লোকজন। স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধের চোখে পড়ে শুধুই বালুর আস্তরণ। বাঁধের পূর্বদিকে বেশ কিছু কৃষক নিজেদের ক্ষেতে বসে হাত দিয়ে বালুর ভেতর থেকে ধানের চারা বের করার চেষ্টা করছিলেন। চারবাগডোহরার শফিয়ার রহমান মাসখানেক আগে ছয় বিঘা জমিতে আমনের চারা রোপণ করেছিলেন। তরতাজা হয়ে উঠেছিল ধানের চারাগুলো। তিন দিন আগে উজানের ঢলে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পায়। পরদিন পানি নেমে গেলেও ঢলের সঙ্গে আসা বালুতে ঢাকা পড়ে যায় তার ধানক্ষেত।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানালেন, এবারের দফায় দফায় তিস্তার পানি বাড়া-কমার কারণে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে চরবাগডোহরা এলাকার সৈয়দ আলী, জাহাঙ্গীর আলম, তৈয়ব আলী, মন্টু মিয়াসহ ১৭ পরিবারের ঘরবাড়িসহ প্রায় ৫০০ বিঘা আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে। আরও অন্তত ১৫টি পরিবার হুমকির মুখে পড়ে তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া চিলাখাল ও বাগডোহরা এলাকায় ৩০০ বিঘা আমন ধানের ক্ষেত ঢলের পানিতে আসা বালুতে ঢাকা পড়েছে। যেসব ক্ষেত থেকে ধান পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কমপক্ষে ৩০০ কৃষক এমন ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলেও জানালেন তারা।
নোহালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বললেন, এখানকার কৃষকরা ভালো নেই। তাদের নিঃস্ব করেছে তিস্তা। ঘরবাড়ি বিলীনের পাশাপাশি রোপা আমনের ক্ষেত বালুতে ঢাকা পড়ায় তাদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, ঢলের সঙ্গে আসা বালুতে কিছু জমির ধানের চারা ঢাকা পড়েছে, তবে প্রকৃত তথ্য নেই তাদের কাছে। তথ্য সংগ্রহ চলছে বলে জানালেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হোসেন।




