পোশাক নিয়ে আপত্তি তুলে মেট্রোতে উঠতে পুলিশের বাধা

ভিডিও করছিলেন পুলিশ সদস্যরা। সাজ্জাদ হোসেন (ডানে)
মেট্রোরেলে পোশাকের কোনো বিধিনিষেধ নেই, তবু ‘অশালীন’ পোশাকের কথা তুলে হাফপ্যান্ট পরা এক অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে প্রায় ৪০ মিনিট আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) কর্তৃপক্ষ স্বীকার করছে, গণপরিবহনে কে কোন পোশাক পরবেন, তা নির্ধারণের সুযোগ নেই। তবে এই ঘটনায় এমআরটি পুলিশের বক্তব্য স্পষ্ট করছে, হাফপ্যান্ট পরাটাকে ‘গণ-উপদ্রব’ হিসেবে নিয়েছিলেন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা।
আজ রবিবার মেট্রোরেলে ওঠার সময় টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরা অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেনকে ‘অশালীন পোশাক’ পরার অভিযোগে বাধা দেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।
সাজ্জাদের অভিযোগ, টিকিট কেটে মেট্রোরেলের ভেতরে প্রবেশের সময় তাকে ডেকে ওই পোশাক পরে মেট্রোরেলে ওঠা যাবে না বলে জানান এক পুলিশ সদস্য। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে কয়েকজন সদস্য তাকে নিয়ে হাসাহাসি ও হয়রানি করেন। শেষ পর্যন্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়ার পর মেট্রোরেলে উঠতে পারেন তিনি।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সাজ্জাদ হোসেন জানান, সকালে রমনা পার্কে প্রশিক্ষণ করানোর পর ফার্মগেটে একটি কাজ শেষ করে জিয়া উদ্যানের দিকে যাওয়ার জন্য মেট্রোরেলে উঠতে যান তিনি। টিকিট কেটে প্রবেশের সময় দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য তাকে ডেকে বলেন, ‘এই, আপনি এইসব কী ড্রেস পরেন, এইসব অশালীন ড্রেস পরে মেট্রোতে ঢোকা যাবে না।’
এরপর সাজ্জাদ ওই পুলিশ সদস্যের কাছে জানতে চান, কোন পোশাককে অশালীন বলা হচ্ছে এবং কোথায় লেখা আছে যে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে যাওয়া যাবে না। তার অভিযোগ, বিষয়টির কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে দায়িত্বরত সদস্যরা হাসাহাসি করতে থাকেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলেও একই ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়।
সাজ্জাদের দাবি, প্রায় ৪০ মিনিট আটকে থাকার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মেট্রোরেলে যাওয়ার অনুমতি আসে। কিন্তু এতক্ষণ হয়রানির জন্য দায়িত্বরতদের পক্ষ থেকে কোনো দুঃখ প্রকাশ করা হয়নি। বরং বিষয়টি নিয়ে সেখানে কর্মরত কয়েকজন হাসাহাসি করেন।
ঘটনাটি নিয়ে জানতে চাইলে ডিএমটিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মোহাম্মদ জাকির সিদ্দিকী আগামীর সময়কে বলেন, মেট্রোরেলে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যরা ডিএমটিসিএলের অংশ নন। মেট্রোতে এমআরটি পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও তারা সাধারণ পুলিশের অংশ।
তিনি বলছিলেন, ‘পুলিশ যে কাজ করেছে, এটি ঠিক হয়নি। মেট্রোরেল গণপরিবহন। গণপরিবহনে কোনো ড্রেসকোড থাকতে পারে না। কে কোন ধরনের পোশাক পরবে, এটা ঠিক করে দেওয়ার বিষয় না।’
ডিএমটিসিএলের এই বক্তব্যে স্পষ্ট হচ্ছে, মেট্রোরেলে যাত্রীদের পোশাক নিয়ে কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞা নেই। ফলে কোনো লিখিত বিধিনিষেধ ছাড়াই একজন যাত্রীকে পোশাকের কারণে প্রবেশে বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্তের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে।
এমআরটি পুলিশের অতিরিক্ত সুপার আবু আশরাফ সিদ্দিকীর কাছে জানতে চাইলে তিনি আগামীর সময়কে বলেন, মেট্রোরেলে কোন কোন বস্তু নিষিদ্ধ, তার একটি তালিকা করা আছে। তবে সেই তালিকায় পোশাক নিয়ে কোনো বিধিনিষেধ নেই।
তবে পুলিশের এই কর্মকর্তা ফৌজদারি আইনের ‘গণ-উপদ্রব’-সংক্রান্ত একটি ধারার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য, কোনো কিছুতে ‘গণ-উপদ্রব’ তৈরি হলে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
অবশ্য এই ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা ঠিক কোন বিবেচনায় ওই যাত্রীকে থামিয়েছিলেন, তা জানতে তাদের কাছে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আবু আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, পুলিশ সদস্যরা পুরো সময় হাসিমুখে ছিলেন এবং যাত্রীর সঙ্গে কোনো খারাপ ব্যবহার করেননি। বিষয়টি নিয়ে যাত্রীকেও পরদিন আসতে বলা হয়েছে। সামনাসামনি বসে ঘটনার ব্যাখ্যা ও সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন সাজ্জাদ হোসেন।
তিনি আগামীর সময়কে বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। বিষয়টি প্রথমে স্বাভাবিকভাবে দেখলেও পরে এটিকে হয়রানিই মনে করেছি। আমি চাই এমন ঘটনা আর না ঘটুক। তাই অভিযোগ করা।’



