দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪০ বছরের মধ্যে ভয়াবহ খরা, দক্ষিণাঞ্চলে পানির তীব্র হাহাকার

ছবি: রয়টার্স
দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী খরা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় কৃষি খাত ও স্থানীয় জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। দেশটির দক্ষিণ অংশে অবস্থিত কৃষি খামারগুলোর কৃত্রিম সেচ ব্যবস্থা নদী ও জলাশয়ের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। পানি না থাকায় দিশেহারা কৃষকরা বাধ্য হয়ে শুকিয়ে যাওয়া নদীনালার তলদেশ খুঁড়ে ও বালু সরিয়ে শেষ সম্বল হিসেবে সামান্য পানি বের করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ রেকর্ড মাত্রায় কমে যাওয়ায় এবং স্বাভাবিক মৌসুম অপেক্ষা অতিরিক্ত তাপমাত্রা বজায় থাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার জোলানাম-দো, জিয়াংসাং-নাম দো সহ বিস্তীর্ণ দক্ষিণাঞ্চলের জলাধার ও রিজার্ভারগুলোর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে সর্বনিম্নে নেমে গেছে। স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তরের উপাত্ত অনুযায়ী, এই অঞ্চলে গত চার দশক বা প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে এমন পানিশূন্যতা ও তীব্র খরা পরিস্থিতি আর কখনও দেখা যায়নি।
খরা পরিস্থিতির ব্যাপকতা এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, প্রধান প্রধান কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী এলাকাগুলোতে এক ফোঁটা পানির জন্য হাহাকার তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে অনাবৃষ্টির কারণে ধানের জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে এবং অন্যান্য শাকসবজি ও ফলমূলের ফলন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন বাধ্য হয়ে জরুরি পানীয় জল ও কৃষিকাজের জন্য ট্যাংকারে করে পানি সরবরাহ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, কিন্তু চাহিদার তুলনায় তা একেবারেই অপ্রতুল। সেচ কাজ চালানোর জন্য কোনো বিকল্প পথ না থাকায় মাঠের পর মাঠ ফসল শুকিয়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, যা চলতি মৌসুমে দেশটির জাতীয় খাদ্য উৎপাদন ও বাজারে পণ্যের মূল্যের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগী প্রান্তিক কৃষকেরা।
উদ্ভূত এই জরুরি সংকট মোকাবেলায় দেশটির কৃষি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে খরা উপদ্রুত এলাকাগুলোকে বিশেষ সহায়তা অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে কাজ শুরু করেছে। সরকার ইতিমধ্যেই ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের জন্য নতুন গভীর নলকূপ খনন ও জরুরি পানি বিতরণ অবকাঠামো নির্মাণের কাজে তহবিল বরাদ্দ দিতে শুরু করেছে। এছাড়া স্বল্পমেয়াদী ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় এগ্রিকালচারাল ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট পুনর্গঠন করার চিন্তা করছে কোরিয়ান সরকার। আঞ্চলিক কৃষিপণ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে যদি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হয়, তবে এই খরা সংকট দক্ষিণাঞ্চল ছাড়িয়ে পুরো দেশের সার্বিক অর্থনীতিতেও গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।




