হাইকোর্টের রায়েও হিটুর মৃত্যুদণ্ড বহালের প্রত্যাশা আছিয়ার মায়ের

আসামি হিটু শেখ। ফাইল ছবি।
মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়া আক্তার ধর্ষণ-হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় আজ সোমবার ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট।এ মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। খালাস পেয়েছিলেন অন্য তিন আসামি।
রায়ের আগে আছিয়ার মা মোসা. আয়েশা খাতুনের প্রত্যাশা, মৃত্যুদণ্ডের রায় যেন বহাল থাকে।
গত মঙ্গলবার হাইকোর্টে এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হলেও তা পিছিয়ে আজ ৩১ আগষ্ট নির্ধারণ করা হয়।
আজ হাইকোর্টের রায় নিজেদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হবে বলে আশা করেন আছিয়ার মা। আজ সকালে তিনি বলেছেন, ‘আমরা আর অপেক্ষা করতে পারছি না। রায় বারবার পিছালে মনে হয় আমরা হয়তো আর সঠিক বিচার পাব না। আদালত আমাদের ন্যায় বিচার দেবেন —এই আশায় এখনো আছি।’
‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের’, এ কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তার প্রত্যাশা হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল থাকা।
শিশু আছিয়ার ঘটনাটি গত বছরের মার্চের। দেশ
জুড়ে বিক্ষোভ, রাজনৈতিক নেতাদের নিন্দা-ক্ষোভের মধ্যে মাত্র দুমাস ১১
দিনের মাথায় এসেছিল এ মামলার রায়।
আছিয়ার বাড়ি মাগুরার শ্রীপুরে। গত বছরের মার্চের শুরুতে মাগুরা শহরে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যায় সে।
৬ মার্চ দুপুরে তাকে অচেতন অবস্থায় মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আনেন তার বোনের শাশুড়ি। চিকিৎসকদের
পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সামনে আসে শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনা।
এরপর
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সবশেষে
সিএমএইচে নেওয়া হয় শিশুটিকে। সেখানে ১৩ মার্চ মারা যায় আছিয়া।
৮
মার্চ আছিয়ার মা আয়েশা চারজনের নামে মামলা করেন। তারা হলেন, আছিয়ার বোনের
স্বামী সজীব শেখ, শ্বশুর হিটু শেখ, শাশুড়ি জাহেদা বেগম ও সজীবের ভাই রাতুল
শেখ। তাদের গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। আসামিদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে স্থানীয়রা,
দেওয়া হয় আগুন।
এরই মধ্যে ঘটনাটি আলোচিত হয় দেশ জুড়ে। দ্রুত বিচার ও অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজার দাবিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় চলে বিক্ষোভ, মানববন্ধনের মতো নানা কর্মসূচি। আছিয়ার বাড়িতে যান বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি নেতাকর্মীরা। সবার দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা।
১৩ এপ্রিল মাগুরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এরপর ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে শুরু হয় বিচারকাজ।
ঘটনার দুমাস পর ১৭ মে মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান এই মামলার রায় দেন। আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় আসামি হিটু শেখকে। খালাস পান অন্যরা।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয় শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে ২০২৫ সালের ১৭ মে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান।
পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখ আপিল করেন। গত ১১ আগস্ট এ মামলার শুনানি শুরু হয়।









