একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগে চরঘাসিয়া গ্রামের পাঁচ হাজার মানুষ

স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত অস্থায়ী পাটাতনের একাংশ ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে খাল পাের হতে হয় চরঘাসিয়া গ্রামবাসীদের। ছবি: আগামীর সময়
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পশ্চিম চরঘাসিয়া গ্রামের চান্দার খালের ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত অস্থায়ী পাটাতনের একাংশ ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার করতে হচ্ছে তাদের। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, খাল পার হতে অনেককে পানি মাড়িয়ে কিংবা সাঁতরে যেতে হয়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। ভয়ে অনেক শিশু বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যাচ্ছে।
দুর্ভোগ লাঘবে ২০২১ সালে স্থানীয় বাসিন্দারা চাঁদা তুলে প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয়ে খালের ওপর অস্থায়ী পাটাতন নির্মাণ করেন। সম্প্রতি অস্বাভাবিক জোয়ারের পানির স্রোতে পাটাতনের পশ্চিম পাশের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে ওই পথে স্বাভাবিক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। পরে ভাঙা অংশে বাঁশের চাটাই বিছিয়ে কোনোভাবে পারাপারের ব্যবস্থা করা হলেও সেটিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডটি আয়তনে বড়। এ ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত হাজার। চান্দার সংযোগ খালের দুই পাড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। খালের পশ্চিম পাড়ের চরঘাসিয়া, চরইন্দুরিয়া, চরজালিয়া, নতুন কানিবগার চরসহ মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ের কয়েকটি এলাকার মানুষ চলাচলের জন্য এই পথ ব্যবহার করেন।
খাল পার হয়ে চরবংশীর খাসেরহাট ও রায়পুর উপজেলা সদরে যেতে তাদের মাইলের পর মাইল কাঁচা ও কাদাযুক্ত রাস্তা পাড়ি দিতে হয়। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ দৈনন্দিন কাজে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা মনু মাঝি জানিয়েছেন, আগে সেখানে একটি সাঁকো ছিল। কিছুদিন পরপর সেটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ত। তখনও মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতেন। অনেক শিশু ও নারী সাঁকো থেকে পড়ে আহত হয়েছেন। পরে এলাকাবাসীর কাছ থেকে চাঁদা তুলে খালের ওপর পাটাতন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু জোয়ারের পানির স্রোতে পাটাতনের একাংশ ধসে পড়ায় স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পরে ভাঙা অংশে বাঁশের চাটাই বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আরেক বাসিন্দা করিম মাঝি বলেছেন, সড়ক যোগাযোগ ভালো না থাকায় চরের মানুষকে কৃষিপণ্য নিয়ে মাইলের পর মাইল কাদাযুক্ত কাঁচা রাস্তা পাড়ি দিতে হয়। এখানে ব্যাপকভাবে সয়াবিন, ধান ও সবজি চাষ হয়। কিন্তু কৃষিপণ্য ঘরে তোলা বা বাজারে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিবহন পাওয়া যায় না। কাঁচা রাস্তা সলিং করা এবং খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হলে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
মনু মিয়া নামের আরেক বাসিন্দার ভাষ্য, চরের কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে নেওয়া যায় না। রোগীকে কাঁধে করে নিয়ে যেতে হয়। কালভার্ট বা সেতু না থাকায় যানবাহন ও মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থায়ী সেতুর অভাবে তাঁদের দুর্ভোগের শেষ নেই। দ্রুত সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
পশ্চিম চরঘাসিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, ভেলা দিয়ে খাল পার হওয়ার সময় তিনিও পানিতে পড়ে গিয়েছিলেন। ভয়ে ছোট শিক্ষার্থীদের অনেকে বিদ্যালয়ে আসছে না। কেউ কেউ সাঁতরে খাল পার হয়ে পাড়ে উঠে জামাকাপড় পরিবর্তন করে বিদ্যালয়ে আসে। খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ এখন চরের মানুষের প্রাণের দাবি।
এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা প্রকৌশলী জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের জানা আছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




