সেতু বদলাতে পারে চরাঞ্চলের মানুষের জীবন

ছবি: আগামীর সময়
নরসিংদীর রায়পুরার মেঘনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের ১১টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কারণ নদী পারাপারে সেতুর অভাব। চানপুর ইউনিয়নের বগডরিয়াকান্দি ও পাড়াতলী ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি এলাকার মেঘনা নদীর সংযোগস্থলে প্রায় ৪৮০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মিত হলে চানপুরসহ দুই ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে। বর্তমানে নৌকায় নদী পার হয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয় তাদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মেঘনা নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চলগুলোর সঙ্গে রায়পুরা উপজেলা সদরের যোগাযোগব্যবস্থা বেশ নাজুক। সংযোগস্থলে সেতু না থাকায় চানপুর ও পাড়াতলী ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন। নৌকায় নদী পার হতে গিয়ে ঝুঁকি নিতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষকে। বর্ষাকালে নদীর পানি ও স্রোত বেড়ে গেলে দুর্ভোগ আরও বাড়ে।
যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন কৃষকেরা। চানপুর ও আশপাশের চরাঞ্চলে ধান, পাট, শাকসবজি ও বিভিন্ন ধরনের রবিশস্য উৎপাদিত হয়। কিন্তু সড়ক যোগাযোগের সুবিধা না থাকায় সহজে এসব পণ্য বাজারে নিতে পারেন না কৃষকেরা। নদীর পাড় পর্যন্ত পণ্য নিতে তাদের বাড়তি খরচ হয়। পরে অনেক সময় মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হন। এতে উৎপাদন খরচের তুলনায় তাদের লাভ কমে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সংযোগস্থলে একটি সেতু নির্মিত হলে চরাঞ্চলের সঙ্গে উপজেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হবে। কৃষকেরা কম খরচে দ্রুত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পারবেন। পাশাপাশি শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন মৌলিক সেবা গ্রহণও সহজ হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সেতুটি নির্মাণের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন ও তদবির করা হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুলের কাছেও সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, প্রায় ৪৮০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণ হলে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগের অবসান হবে।
রায়পুরা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তোহর ইসলাম বলেন, ‘ওই স্থানে প্রায় ৪৮০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। সংযোগস্থলের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন টেন্ডারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলে চানপুরসহ আশপাশের চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ কমবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায়ও সুবিধা পাবেন তারা।




