কক্সবাজারের উন্নয়ন নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে : প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

বক্তব্য দিচ্ছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
কক্সবাজারের পর্যটন ও উন্নয়ন যেন বিকশিত হতে না পারে, সে জন্য দীর্ঘদিন ধরে নানা ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি অভিযোগ করেছেন, কোনো উন্নয়ন প্রকল্প ও পরিকল্পনা হাতে নিলেই একটি সংস্থা আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে। পরে আদালতের আদেশকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে বারবার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ৪ নম্বর বর্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র পরিদর্শনকালে একথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘কক্সবাজার নিয়ে সরকার বিপদের মধ্যে আছে। কোনো উন্নয়ন প্রকল্প ও পরিকল্পনা হাতে নিলেই একটি সংস্থা আদালতের দ্বারস্থ হয়। পরে আদালতের আদেশকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে বারবার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘কক্সবাজার দেশের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা। এটিকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার সব বাধা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে কক্সবাজারকে উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে নিয়ে যেতে কাজ করছে। তার ভাষায়, ‘আমরা কক্সবাজারকে যেকোনো মূল্যে একটি ভালো অবস্থানে নিয়ে যাব।’
শনিবার সকালে উখিয়ার ২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে ৪ নম্বর বর্ধিত ক্যাম্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকেন্দ্রও পরিদর্শন করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে ক্যাম্পে উৎপন্ন বর্জ্য সংগ্রহ, বাছাই, পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন মীর শাহে আলম। প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ সম্পর্কেও তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাসের কারণে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ প্লাস্টিক। পরিকল্পিতভাবে এসব বর্জ্য সংগ্রহ ও পৃথকীকরণের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। একই সঙ্গে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবে।’
তিনি জানান, সারা দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রায় ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৫০৩টি উপজেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার ও হাট-বাজারসহ মোট ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জাতীয় পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে চীনের সিএমইসি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এরই মধ্যে চুক্তি হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন ৩ হাজার টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে প্রায় ৪৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চীনের উইমিম নামে একটি প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনেও যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ করবে। আর গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ফিনল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে বলে জানান তিনি।
উখিয়ার সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকেন্দ্র সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্প। প্রতিদিনের বর্জ্য থেকে সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম বৃহৎ পরিসরে নেওয়ার জন্য সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মনিরুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ, প্রকল্প পরিচালক আবদুল কাইয়ূম এবং উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়, প্রশাসন ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





