বরযাত্রার গাড়ি থামিয়ে নববধূকে ‘তুলে নিলেন’ ছাত্রদল কর্মী

নববধূকে গাড়ি থেকে তুলে নেওয়ায় অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী আতিকুর রহমান মিয়াদ। ছবি: সংগৃহীত
নতুন বউকে নিয়ে বাড়ির পথে যাচ্ছিল বরযাত্রার গাড়ি। পথ আটকে ভাঙচুর ও আতঙ্ক ছড়িয়ে তুলে নেওয়া হলো নববধূকে। এ অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদল কর্মী আতিকুর রহমান মিয়াদের বিরুদ্ধে।
রবিবার রাতে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মিয়াদের বাড়ি উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চর হাজিপুর গ্রামে। তিনি ছাত্রদল করেন বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন রাজীব।
স্থানীয় লোকজনের কথায় জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার এক তরুণীর সঙ্গে গতকাল বিয়ে হয় নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের এক যুবকের। আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে নান্দাইলের দিকে মাইক্রোবাসে করে ফিরছিলেন বরযাত্রীরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হাজিপুর বাজার এলাকায় গাড়িটি পৌঁছালে একদল যুবক তা আটকে দেয়। মিয়াদের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন মাইক্রোবাসে ভাঙচুর চালিয়ে নববধূকে তুলে নিয়ে চলে যায়।
ঘটনার পর আতিকুর রহমান মিয়াদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই..!’
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওসাদ বললেন, ‘ঘটনাটি আমি জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
মিয়াদ ভালো কর্মী জানিয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শহীদুল্লাহ কাইসার শহীদ বললেন, ‘তবে সে যে কাজ করেছে, সেটা অন্যায়। গতকালকের ঘটনার আমরা নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। মেয়ের পরিবার তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিলে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।’
নববধূর সঙ্গে মিয়াদের আগে থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানালেন হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম। ‘তাদের সম্পর্ক মেনে নেওয়া হয়নি। এ কারণেই ছেলেটি এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। মেয়ের পরিবার অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে’- বললেন ওসি।









