দুই লাখ টাকা হলেই শেষবারের মতো সন্তানকে দেখতে পাবেন হাজেরা

ছবি: আগামীর সময়
ছেলের মুখটা শেষবারের মতো দেখতে চান হাজেরা খাতুন। চার বছর আগে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তার ছেলে সরোয়ার কামাল প্রকাশ মনু মিয়া। চার মাস আগে জীবিকার তাগিদে আবারও গিয়েছিলেন সেই দেশে।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে মালয়েশিয়ার জহুরবারু শহরের সুলতানা আমিনা হাসপাতালে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যান সরোয়ার কামাল। এখন তার মরদেহ পড়ে আছে হাসপাতালের মর্গে।
সামনে কাঁটাতারের মতো দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৮ হাজার রিঙ্গিতের হাসপাতাল বিল। বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই লাখ টাকারও বেশি। এই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় মরদেহ ছাড়াতে পারছে না পরিবার। দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন আরও প্রায় দেড় লাখ টাকা।
কক্সবাজারের মহেশখালীর বড়মহেশখালী ইউনিয়নের পাহাড়তলি গ্রামের জরাজীর্ণ বাড়িতে বসে সেই খবরের অপেক্ষায় আছেন সরোয়ারের মা। পলিথিনে ঘেরা ছোট্ট বাড়ির টিনের ঘরে তার স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক ছেলে। একই ঘরে শোকে কাতর হয়ে আছেন বৃদ্ধ হাজেরা খাতুন। যে ছেলে সংসারের অভাব ঘোচাতে বিদেশে গিয়েছিলেন, তার মরদেহটুকুও যে টাকার অভাবে দেশে ফিরছে না। এ বাস্তবতা যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না তিনি।
কাঁপা কণ্ঠে হাজেরা খাতুন বলেছেন, আমার ছেলে বিদেশে গিয়েছিল পরিবারের জন্য। এখন শুনি আমার ছেলে আর বেঁচে নেই। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। আমার ছেলের মুখটা একবার দেখতে চাই। সরকার ও দেশের মানুষের কাছে আমার আকুতি, আমার ছেলের মরদেহটা দেশে এনে দেন।
সরোয়ারের ভাই মোহাম্মদ ইউনুছের চোখেও এখন অসহায়ত্ব। তার ভাষায়, ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফেরানোর মতো সামর্থ্য তাদের নেই। হাসপাতালের বকেয়া পরিশোধের পাশাপাশি মরদেহ পরিবহনের খরচ জোগাড় করাও পরিবারের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা বাসিন্দারা জানান, সরোয়ারের মৃত্যুর সঙ্গে শুধু একটি প্রাণের অবসান হয়নি, ভেঙে পড়েছে একটি পরিবারের শেষ ভরসাটুকুও। স্ত্রী, চার সন্তান আর বৃদ্ধ মায়ের সংসারে উপার্জনক্ষম মানুষটি ছিলেন তিনি। এখন মালয়েশিয়ার মর্গে পড়ে থাকা তার মরদেহ যেন পরিবারের দারিদ্র্য আর অসহায়তার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি।








