অপহৃত সেই নববধূর ভিডিও বার্তা– ‘যেমনেই আইছি, এনেই থাকবাম’

ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ভিডিও থেকে নেওয়া
বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে নববধূকে তুলে নেওয়ার অভিযোগের এক দিন পর নিজের অবস্থান জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের তামান্না আক্তার। তিনি জানালেন, যেভাবেই তিনি সেখানে গেছেন, এখন সেখানেই থাকবেন।
গতকাল সোমবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তামান্না এসব কথা জানিয়েছেন। ভিডিওতে তার দুই পাশে ছয়জন নারী এবং সামনে একজন পুরুষকে বসা অবস্থায় দেখা যায়। একটি কক্ষের দরজার পাশে অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদকেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিডিও বার্তায় তামান্না বললেন, ‘আমি যেমনেই আইছি, জোর কইরা হউক, নিজের ইচ্ছায় হউক, যেমনেই হউক। আইছিতো আইছিই। এহন যদি যাইগাও, গেলেও তো আমার মান-সম্মান ফিরা আইতো না, আমার বাপ-মার মান-সম্মানও ফিরা আইতো না। গেলেও কোনো লাভ নাই। আমি আইছি, এনেই থাকবাম।’
গত রবিবার কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে নববধূকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় চর হাজিপুর গ্রামের মজিবুরের ছেলে আতিকুর রহমান মিয়াদকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি ছাত্রদলের কর্মী বলে জানা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার আবুল মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তারের সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার (২৮) বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন বর ও বরযাত্রীরা।
হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে ২০-২৫ জন যুবক মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ। আতিকুর রহমান মিয়াদের নেতৃত্বে তারা গাড়িটি থামান। এরপর গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে তামান্নাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর তামান্না ও আতিকুর রহমান মিয়াদের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে। তাদের মধ্যে আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন। তবে এ তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি আগামীর সময়।
এদিকে ঘটনার পর আতিকুর রহমান মিয়াদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই..!’ তবে তার এই পোস্টের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
তামান্নার বক্তব্যের পর তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন এবং কীভাবে সেখানে গেছেন, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি স্বেচ্ছায় গেছেন, নাকি জোরপূর্বক তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। ছেলেপক্ষ নাকি মেয়েপক্ষ অভিযোগ করবে, সেটি তারা নির্ধারণ করবে। মামলা না হলেও পুলিশ তামান্নাকে উদ্ধারে কাজ করছে।
ওসি আরও জানালেন, তামান্নাকে উদ্ধার করা গেলে ঘটনাটি আসলে কী ঘটেছে, তা স্পষ্ট হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি ঘটনার পর থেকে বন্ধ আছে।








