ফরিদপুরে ৯ বছরের স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শওকত মিয়া— সংগৃহীত
ফরিদপুরের সালথায় ৯ বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে শওকত মিয়া (৩৮) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাসার মিঞা আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর কড়া পুলিশ পাহারায় দণ্ডপ্রাপ্ত শওকত মিয়াকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয় ।
দণ্ডপ্রাপ্ত শওকত মিয়ার বাড়ি ফরিদপুরের সালথায়।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২২ মে বিকালে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ৯ বছরের ওই শিশুটি বাড়ির পাশের নিজেদের ডাটাক্ষেত দেখতে যায়। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিবেশী শওকত মিয়া শিশুটিকে জোরপূর্বক তুলে পাশের একটি নির্জন পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটিকে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করেন। ঘটনার পরদিন নির্যাতিতার বাবা বাদী হয়ে সালথা থানায় শওকত মিয়াকে একমাত্র আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর সালথা থানা পুলিশ শওকত মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে প্রায় ৬ বছর পর আদালত এ রায় প্রদান করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) অ্যাডভোকেট অর্চনা দাস বললেন, ‘একটি অবুঝ শিশুকে নির্যাতন করে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছিল, আজকের এই রায়ের মাধ্যমে তার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো। এই শাস্তি সমাজে অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চার করবে এবং শিশু সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা এ রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট।’




