৬ ঘণ্টা পর অনুষ্ঠানে এমপি, ক্ষুদ্ধ কৃষকরা

বরিশালে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি অনুষ্ঠাননে নির্ধারিত সময়ে আসেননি এমপি মজিবর রহমান সরওয়ার— সংগৃহীত
কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির একটি অনুষ্ঠানে নির্ধারিত সময়ের প্রায় পৌনে ৬ ঘণ্টা পর উপস্থিত হন বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরওয়ার। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকা শতাধিক কৃষক ক্ষোভ জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাও এ নিয়ে অসন্তুষ্ট।আজ বৃহস্পতিবার বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ ঘটনা ঘটে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে চারা, গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির বীজ ও সার বিতরণের আয়োজন ছিল সেখানে। অনুষ্ঠান শুরু সময় ছিল সকাল ৯টায়।
সকাল ৮টা থেকেই সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ কৃষক হলরুমে উপস্থিত হন। সকাল গড়িয়ে দুপুর ২টা ৪৬ মিনিটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান প্রধান অতিথি সাংসদ মজিবর রহমান সরওয়ার।
শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের কৃষক আবুস সাঈদ অভিযোগ করে বললেন, ‘সকাল ৯টা থেকে আমাদের এই হলরুমে বসিয়ে রাখা হয়েছে। আমাদের ৫/৬ ঘণ্টা বসিয়ে রেখে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি করা ঠিক হয়নি।’
একই ইউনিয়নের কৃষক রফিক হাওলাদারের মন্তব্য, ‘আমাদের তারা গরু-ছাগল মনে করেছে। ইউএনও ম্যাডামও রাগ করে চলে গেছেন। আমরা দিন আনি দিন খাই, আমাদের এভাবে বসিয়ে রেখে একটা দিন নষ্ট করা হয়েছে। এমপি সাহেব যদি নির্ধারিত সময়ের প্রোগ্রামে আসতে না পারেন, তাহলে আগে থাকতেই বলতে পারতেন। আমাদের মতো সাধারণ কৃষকদের কেন ভোগান্তিতে ফেলবে?’
জাগুয়া ইউনিয়নের কৃষক ইদ্রিস বলেছেন, ‘কিছু সময়ের মধ্যেই এমপি সাহেব আসবেন, এমন কথা শুনতেছি ৪/৫ ঘণ্টা ধরে। আমাদের একটা দিন ওনার কারণে মাটি হয়ে গেছে। বিরক্ত হয়ে অনেক কৃষক বাড়ি চলে গেছে। ৯টার প্রোগ্রাম ৩টায় হওয়াটা কি স্বাভাবিক? ইউএনও ম্যাডাম ও কৃষি কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করেছি, তাদের রাগান্বিত মনে হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বললেন, ‘এই অনুষ্ঠান পূর্বনির্ধারিত ছিল। আমরা সকাল থেকেই এমপি মজিবর রহমান সরওয়ার মহোদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। প্রোগ্রাম আছে, প্রোগ্রাম আছে বলতে বলতে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ঠেকিয়েছেন। সাধারণ কৃষকদের তোপের মুখে তো আমাদের পড়তে হয়। ৪০০ কৃষক সকাল থেকে উপস্থিত ছিল। বেলা যত গড়িয়েছে কৃষকরা চলে গেছেন। সবারই কাজ রয়েছে, কেউ অকর্মণ্য নয় এখানে। আমরা কিছু বলতে পারি না, কেননা আমরা সরকারি চাকরি করি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফরিদা সুলতানা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, আগের দিন বুধবার বরিশাল জিলা স্কুলে প্রথম বার্ষিক মেধা পুরস্কার ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান দুপুর ১২টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে সেখানে শিশু শিক্ষার্থীরা দুপুর ২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর সংসদ সদস্য মজিবর রহমান অনুষ্ঠানে পৌঁছান।
স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, শুধু এই দুটি অনুষ্ঠান নয়, বেশিরভাগ অনুষ্ঠানেই অন্তত দুই ঘণ্টা দেরিতে উপস্থিত হন এমপি মজিবর। সাধারণ মানুষ ও আয়োজকরা ভোগান্তিতে পড়লেও এ বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাংসদ মজিবর রহমান সরওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।





