স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ‘সেবা’ করবে কে

ছবি: আগামীর সময়
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি একসময় স্থানীয়দের কাছে ছিল প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল। কিন্তু বর্তমানে নিজেই যেন ‘রোগী’ হয়ে পড়েছে কেন্দ্রটি। শতবর্ষী জরাজীর্ণ অবকাঠামো, চরম জনবল সংকট ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন লাখো মানুষ। বছরের পর বছর সংস্কার ও উন্নয়ন না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেড ভবনে সীমিত জনবল নিয়ে চলছে সেবা কার্যক্রম। এতে রোগী, স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবনের মাঝখানে অস্থায়ী পার্টিশন দিয়ে চলছে চিকিৎসা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। নেই প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। টিনের ছাউনিতে মরিচা পড়ে ছিদ্র হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে চুইয়ে পড়ে পানি। এতে নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম। পর্যাপ্ত আলো না থাকায় দিনের বেলায়ও ভবনের ভেতর থাকে অন্ধকারাচ্ছন্ন।
স্থানীয়রা জানালেন, টোক ইউনিয়নের পাশাপাশি ময়মনসিংহের গফরগাঁও এবং কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার অন্তত ২৫টি গ্রামের মানুষ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল।
জানা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে মেডিকেল অফিসার, মিডওয়াইফ, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিস্ট, অফিস সহায়কসহ পাঁচটি পদ অনুমোদিত থাকলেও বর্তমানে কর্মরত মাত্র দুজন। এর মধ্যে একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও অন্যজন ফার্মাসিস্ট। ফলে প্রতিদিন গড়ে ১০০-১১০ জন রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে সীমিত জনবল দিয়ে।
টোক ইউনিয়নের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বললেন, ‘সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশি কিংবা প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য আমরা এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসি। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় অনেক সময় প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যায়নি।’
উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. আজহার উদ্দিন বললেন, ‘কাপাসিয়ার পাশাপাশি গফরগাঁও ও পাকুন্দিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষও এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে যথাযথ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমানের আশ্বাস, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সমস্যার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন, সিভিল সার্জন এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ ইউএনও তামান্না তাসনীমও দিলেন আশ্বাস, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
টোক ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের সমস্যার বিষয়টি অবগত আছেন গাজীপুরের সিভিল সার্জন মামুনুর রহমান। তিনি বললেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ এবং জনবল সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’




