নোয়াখালী কলেজে শিক্ষক হেনস্তা, ছাত্রদলের তিন নেতা বহিষ্কার

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় নোয়াখালী কলেজের ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার, একজনের পদ স্থগিত এবং সাবেক এক নেতাকে শোকজ। ছবি : সংগৃহীত
নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের হেনস্তা ও অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে ছাত্রদলের তিন নেতাকে। এ ছাড়া দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির পদ। পাশাপাশি শোকজ করা হয়েছে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক এক সভাপতিকেও।
আজ বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এই সিদ্ধান্তগুলো অনুমোদন করেছেন।
বহিষ্কৃতরা হলেন, কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওন। একই ঘটনায় দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের সাংগঠনিক পদ।
এ ছাড়া সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এর আগে বুধবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষক পরিষদের অভিযোগ, বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ ও পরীক্ষার ফি সংক্রান্ত বিষয়ে চাঁদা না দেওয়ায় কিছুদিন ধরে কলেজে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছিলেন ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী।
ঘটনার সময় একটি কক্ষে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক। এ সময় একদল ছাত্রদল নেতাকর্মী সেখানে প্রবেশ করে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং খাবারের টেবিল থেকে উঠে যেতে বাধ্য করেন। একপর্যায়ে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে তার শার্টের বোতামও ছিঁড়ে ফেলেন।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নোয়াখালী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ বি এম সানা উল্লাহ বলেছেন, ‘চাঁদা না দেওয়ায় কিছুদিন ধরে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল তারা। সর্বশেষ ঘটনা চরমে পৌঁছে দিয়েছে পরিস্থিতিকে। বিষয়টি জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।’
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগ। তিনি বলেছেন, শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়। একপর্যায়ে এক শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে ফুলের টব ও একটি গ্লাস ভাঙচুর করে। তবে এর সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই ছাত্রদলের।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



