সাংবাদিক উৎস হত্যা: এক আসামির মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন দুইজনের

রংপুরে হত্যার শিকার সাংবাদিক মশিউর রহমান উৎস। ছবি: সংগৃহীত
রংপুরে সাংবাদিক মশিউর রহমান উৎসকে হত্যার ১১ বছর পর এসেছে মামলার রায়। এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। খালাস পেয়েছেন মূল অভিযুক্ত জহিরন আক্তার জুঁই। আজ বুধবার দুপুরে রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান খান এ রায় দেন।
আসামিদের মধ্যে রুবেল ওরফে হেকরমকে মৃত্যুদণ্ড এবং মো. এলিন ও শুভ কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা পলাতক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হাদী বেলাল ও বাদীপক্ষের আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ জানালেন, মূল অভিযুক্তকে খালাস দেওয়ায় নাখোশ নিহতের পরিবার। উচ্চ আদালতে করা হবে আপিল।
এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রংপুরের স্থানীয় ‘দৈনিক যুগের আলোর’ অফিসে যান সাংবাদিক উৎস। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে নগরীর ধর্মদাস এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের মা নুরজাহান বেগম নুরী রংপুর কোতোয়ালি থানায় পরে হত্যা মামলা করেন। আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচার।
বাদীর আইনজীবী পলাশ কান্তি বললেন, ‘মামলার মূল অভিযুক্ত জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদি ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে সাংবাদিক উৎস রহমানকে হত্যা করিয়েছে। অথচ আদালত সেই মাস্টারমাইন্ডকেই বেকসুর খালাস দিয়েছে। এ রায়ে আমরা আইনজীবীসহ নিহতের পরিবার সংক্ষুব্ধ। মামলার বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। এভাবে হত্যার পর মূলহোতা পার পেয়ে গেলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে।’
‘এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি’- ক্ষুব্ধ মামলার বাদী নুর জাহান বেগম।
রংপুর সিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মানিকও রায় নিয়ে জানালেন অসন্তোষ। তার কথা, ‘সবাই জানে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অর্থের যোগানদাতা কে এবং কার নির্দেশে সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু আদালত প্রমাণের অভাবে সেই মূলহোতাকে মামলা থেকে খালাস দিয়েছে। আমরা মনে করি এই রায়ে বাদী তার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’








