বিএনপি নেতা, সাবেক বিচারপতি-সেনা কর্মকর্তাসহ জামায়াতে যোগ দিলেন ৬০৫ জন

সংগৃহীত ছবি
সাবেক বিচারপতি, সাবেক সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, কওমি আলেম, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৬০৫ জন জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীও রয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক দাওয়াতি সমাবেশে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন। মাসব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এ আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে যোগদানকারীদের ফুল ও ইসলামিক বই দিয়ে বরণ করেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন বংশাল থানা বিএনপির ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকার। তিনি সম্প্রতি বিএনপি ছেড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া ইসহাক সরকারের বড় ভাই।
এ ছাড়া সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এস এম খালেকুজ্জামান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল ফারুক হোসাইন, পুলিশের সাবেক এসপি ওবায়দুল হক এবং জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা সেলিম আহমেদও জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।
তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশ নূরানী শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, গেণ্ডারিয়া লাল খাঁ সিটি মসজিদের সেক্রেটারি নেয়ামত উল্লাহসহ বেশ কয়েকজন কওমি আলেম। তাদের মধ্যে মুফতি আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা এনামুল হক আজাদী, মাওলানা আব্দুর রহমান আল হাবিবী, মাওলানা জসিম উদ্দিন (রসুলপুরি) ও মাওলানা হাসান জামিল রয়েছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনের আরও কয়েকজন নেতাও এদিন জামায়াতে যোগ দেন। তাদের মধ্যে বংশাল থানার ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান, ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হাজি আলতাব হোসেন এবং ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাবেদ ওমর রয়েছেন। ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজসেবক মোছলেহ উদ্দিন আহমেদও যোগদানকারীদের মধ্যে আছেন।
এ ছাড়া ব্যবসায়ী আবুল আয়েশ খান, ফিরোজ আলম খান, সিনহা এ খালিদ, হাজি শাহ আলম, আবদুর রাজ্জাক সোহাগ ও হুমায়ন কবিরসহ আরও অনেকে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।
এসময় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, তাকে নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা হলেও তিনি মানুষের অকল্যাণ চান না। বরং মানুষের উপকার করার চেষ্টা করেন বলে জানান তিনি।
সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এমন কোনো কথা বলা উচিত নয়, যা নিজের ক্ষেত্রে শুনলে কষ্ট হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তলোয়ারের খোঁচার দাগ থাকে না, মিলিয়ে যায় একসময়। কিন্তু মুখের খোঁচার দাগ, ওটা কখনো যায় না।’
কওমি আলেমদের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, তাদের সংগঠন কওমি সমাজকে আলাদা করে দেখে না। কওমি আলেমদের দ্বীনি কার্যক্রমকেও ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘বাতিলের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। কারও কাছে মাথা নত করা হবে না।’
দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পথ চলতে গিয়ে বাধা, সমালোচনা ও গালিগালাজ আসতে পারে। এমনকি প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। মানুষের জীবন ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আল্লাহর দেওয়া আমানত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই আমানত ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত।







