তুরাগ নদীতে এক্সপ্রেসওয়ের দুই সেতু খুলছে বুধবার

ফাইল ছবি
তুরাগ নদীর ওপর নির্মিত দুটি সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে আগামীকাল বুধবার। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত এই দুটি পার্শ্ব সেতু নির্মাণ করা হয়।
বুধবার থেকে ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটারের সেতুর দুই প্রান্ত থেকেই যান চলাচল করবে। যদিও এগুলো এক্সপ্রেসওয়ের অংশ নয়, নিচের সড়কের বিকল্প হিসেবে নির্মাণ করা সেতু।
প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘ধউর থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত যে অ্যাটগ্রেড (সমান্তরাল) সড়ক দিয়ে যান চলাচল করছে, সেটির পরিবর্তে এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। তবে নিচের সড়কের বিকল্প হিসেবে দুই লেনের দুটি সার্ভিস সেতু করা হয়েছে। একটি ধউর থেকে আশুলিয়ার দিকে এবং অন্যটি আশুলিয়া থেকে ধউরের দিকে যান চলাচল করবে।’
পার্শ্ব সেতু দুটি টোলমুক্ত থাকবে। ভবিষ্যতেও এসব সড়কে কোনো টোল নেওয়া হবে না। সার্ভিস সেতু দিয়ে সাধারণ যানবাহনের পাশাপাশি পথচারী, সাইকেল ও অটোরিকশাও চলাচল করতে পারবে। পার্শ্ব সেতু দিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা করার পর এই অংশে মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ আরও এগিয়ে যাবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, দেশের দ্বিতীয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হিসেবে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে বিদেশি ঋণে। ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই উড়ালসড়ক নির্মাণে বর্তমানে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি ৪ লাখ টাকা।
প্রকল্পের আওতায় ২৪ কিলোমিটার উড়ালপথের পাশাপাশি প্রায় ১১ কিলোমিটার র্যাম্প, দুই লেনের নবীনগর ফ্লাইওভার, বাইপাইলে ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ, ১৪ কিলোমিটার অ্যাটগ্রেড সড়ক পুনর্নির্মাণ, দুই লেনের সেতু, ওভারপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে। থাকছে আধুনিক ড্রেনেজ, ইউটিলিটি ডাক্ট ও টোল প্লাজা।
২০১৭ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। সে সময় ২০২২ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় কয়েক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে।
প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত। এরই মধ্যে প্রকল্পের ৭২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে যেসব চ্যালেঞ্জ ছিল, সেগুলো সমাধান করা হয়েছে। এখন কাজের গতি আরও বাড়ানো হবে।







