প্রশাসন আটকে দিলেও ফরিদপুরে সড়কে চলছে চাঁদাবাজি

ফরিদপুরে রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে বাস আটকে চাঁদাবাজি। ছবি: আগামীর সময়
ফরিদপুরের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে বাস আটকে দুইদিন ধরে চলছে চাঁদাবাজি। দুই শ্রমিক সংগঠনের নামে প্রতি বাস থেকে নেওয়া হচ্ছে ৬০ টাকা। প্রশাসন গতকাল রাতে চাঁদাবাজি বন্ধ করলেও আজ সকাল থেকে ফের টাকা তুলতে দেখা গেছে কয়েকজনকে।
সকালে রাজবাড়ী রাস্তায় গিয়ে দেখা গেছে, মোড় পার করার সময় দুই পয়েন্টে দাঁড়িয়ে দূরপাল্লা এবং অভ্যন্তরীণ রুটের বাসগুলো আটকাচ্ছেন কয়েকজন। তাদের হাতে রসিদ বই।
এক এক বাস থেকে দুই সংগঠনের নামে ৩০ টাকা করে মোট ৬০ টাকা আদায় করছেন তারা। তা না দেওয়া পর্যন্ত ছাড়া হচ্ছে না কোনো বাস।
এই টাকা কেন তোলা হচ্ছে- জানতে চাইলে তাদের একজন মজনু শেখ বললেন, ‘সারা দেশেই শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে টাকা উঠানো হয়। আমরাও শ্রমিকদের জন্যই বাস থেকে ৬০ টাকা করে উঠাচ্ছি। আহত-নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে সহায়তার জন্য এই টাকা তোলা হচ্ছে। আমরা গতকাল থেকে এই কার্যক্রম শুরু করেছি। এটা আমার শ্রমিক ভাইদের কল্যাণেই ব্যয় হবে।’
ফরিদপুর মোটর শ্রমিক ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন ১০৫৫- নামের সমিতিরই দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে এই টাকা তোলা হচ্ছে বলে জানালেন তিনি ও তার সঙ্গে থাকা অন্যরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসচালক বললেন, ‘এমনিতেই যাত্রী সংকট এবং তেলের দামের কারণে আমাদের ট্রিপ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর মোড়ে মোড়ে যদি এভাবে ৬০ টাকা করে কেটে নেওয়া হয়, তবে আমাদের পকেটে আর কিছুই থাকে না। এসব টাকার একটা অংশও সাধারণ শ্রমিকদের কোনো কল্যাণে আসে না।’
ওই বাসের কয়েক যাত্রীর আশঙ্কা, এভাবে পথে পথে টাকা তোলা হলে খরচ ওঠাতে ভাড়া বাড়াবেন পরিবহন সংশ্লষ্টিরা। চাঁদাবাজির চাপ পড়বে যাত্রীদের পকেটে।
ফরিদপুর মালিক সমিতির প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেনের ভাষ্য, ‘গতকাল তারা চাঁদা তোলা শুরু করলে আমি তাদের মানা করি। তারা সেটা বন্ধও করে। এরপর তাদেরকে আমাদের এখানে আসতে বলেছিলাম, তারা আসেনি। এভাবে চাঁদা তোলার কোনো নিয়ম সড়কে নেই’।
ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানালেন তিনি।






