পাবনা
প্রধানমন্ত্রীর আলোকচিত্রীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, বিএনপি নেতাদের চিঠি

ছবি: আগামীর সময়
পাবনায় ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি ও দলে বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী খালেদ হোসেন পরাগের বিরুদ্ধে।
তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বিএনপি চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পাবনা জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
গত ২৪ আগস্ট পাঠানো অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, খালেদ হোসেন পরাগ তার পদমর্যাদা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার করছেন। পাবনার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তিনি নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল থেকে চাঁদাবাজি, নিরীহ মানুষকে মামলার ভয়ভীতি দেখানো এবং সরকারি সংস্থা দিয়ে হয়রানির হুমকি দিচ্ছেন। একই সঙ্গে সরকারি চাকরি দেওয়া ও সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে অর্থ আদায় এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।
এসব অপকর্মের পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ অভিযোগকারী নেতাদের কাছে রয়েছে উল্লেখ করে চিঠিতে আরও বলা হয়, পরাগের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গেও বিবাদের সৃষ্টি হচ্ছে।
জেলা বিএনপির নেতারা জানান, পরাগকে তার এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি উপেক্ষা করেছেন। উল্টো জেলা বিএনপিতে কোন্দল সৃষ্টি করা এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসম্মানজনক কথা প্রচার করছেন, যা জেলা বিএনপির জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর।
লিখিত অভিযোগে স্বাক্ষর করেছেন পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, সদস্য সচিব মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টু, আবু ওবায়দা শেখ তুহিন, নূর মোহাম্মদ মাসুম বগা এবং সদস্য মাহমুদুননবী স্বপন ও মোসাব্বির হোসেন সঞ্জু।
অভিযোগপত্রের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালকের দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, সোমবার দুপুরে পাবনা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে লিখিত অভিযোগের অনুলিপি তুলে দেন জেলা বিএনপি নেতারা।
এ সময় খালেদ হোসেন পরাগের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানহানির অভিযোগ তুলে এ বিষয়ে দলের হাইকমান্ড এবং পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টু, আবু ওবায়দা শেখ তুহিন, নূর মোহাম্মদ মাসুম বগা, সদস্য মাহমুদুননবী স্বপন, মোসাব্বির হোসেন সঞ্জু, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ কে এম মূসা, সদস্য সচিব রেহানুল ইসলাম বুলাল এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুজ্জামান প্রিন্সসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকরা অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করতে চাইলে বিএনপি নেতারা অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ দলীয় ও সাংগঠনিক বিষয়। এ নিয়ে বাড়তি কথা বলতে চাই না।
অন্যদিকে, বিএনপি নেতাদের আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে খালেদ হোসেন পরাগ বলেন, পাবনা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় বিরোধ নেই। তারা কেন আমাকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে বানোয়াট অভিযোগ করছেন, তা আমার বোধগম্য নয়।
পাবনার বিতর্কিত ঠিকাদার শাহাদত হোসেনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমি অবস্থান নিয়েছি। সে কারণেই তার কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া একটি পক্ষ একজোট হয়ে আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অপপ্রচারে নেমেছে বলে অভিযোগ তার।








