ভুট্টা নিয়ে দিশাহারা দিনাজপুরের চাষিরা

ভুট্টা শুকাতে ব্যস্ত কৃষকেরা। ছবি: আগামীর সময়
টানা কয়েক দিন ধরে দিনাজপুরে এই রোদ-এই বৃষ্টি আবহাওয়া বিরাজ করছে। এতে ভুট্টা শুকাতে না পেরে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ভুট্টা কিনতে অনীহা দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও। ফলে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চাষিরা।
জেলার সদর, পার্বতীপুর ও কাহারোল উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, জমি থেকে ভুট্টা তুলে মাড়াই করলেও তা বিক্রি করতে পারছেন না কৃষকরা। রোদ না থাকায় ভুট্টা শুকানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে মাড়াই করা ভুট্টা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
কাহারোল উপজেলার কৃষক হামিদ জানিয়েছেন, এ বছর তিনি ১৫ বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছেন। সম্প্রতি তিন বিঘা জমির ভুট্টা মাড়াই করলেও শুকাতে পারছেন না রোদ না থাকায়।
তার ভাষ্য, ‘এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে দামও ভালো ছিল। কিন্তু এখন রোদ না থাকায় ব্যবসায়ীরা ভুট্টা দেখতেও আসছেন না। এতে বড় দুশ্চিন্তায় আছি।’
পার্বতীপুর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের কৃষক রবিউল জানিয়েছেন, চার দিন আগে এক বিঘা জমির ভুট্টা মাড়াই করেছেন তিনি। কিন্তু এখনো তা বিক্রি করতে পারেননি।
তিনি বলেছেন, ‘আজও বৃষ্টি হচ্ছে। এমন আবহাওয়া আরও কয়েক দিন থাকলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে দিনাজপুরে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৬ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। তবে আবাদ হয়েছে ৭৮ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার ৭০০ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে ভুট্টার।
ভুট্টা ব্যবসায়ী লোকমান হাকিম জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ আগে কেনা ভুট্টাও এখনো শুকাতে পারেননি তিনি।
তার ভাষ্য, রোদ থাকলে ভুট্টার চাহিদা বাড়ে। কিন্তু কয়েক দিনের আবহাওয়ায় ভুট্টা শুকানো যাচ্ছে না। এজন্য নতুন করে ভুট্টা কেনাও সম্ভব হচ্ছে না। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেছেন, গত বছরের তুলনায় এবার জেলায় বাম্পার ফলন হয়েছে ভুট্টার। মৌসুমের শুরুতে ভালো দামও পেয়েছেন কৃষকরা। তবে সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভুট্টা ঘরে তুললেও শুকাতে পারছেন না অনেকে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আবহাওয়া দ্রুত স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।





