সোনারগাঁয়ে চাঁদাবাজদের উৎপাতে অতিষ্ঠ মেঘনা গ্রুপের ঠিকাদাররা

মাহবুবুল ইসলাম সুমন, যার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চাঁদাবাজদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন মেঘনা গ্রুপের ঠিকাদাররা। প্রতিষ্ঠানটির কোনো কাজ করতে গেলেই চাঁদা দাবি করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
সম্প্রতি চাহিদা অনুযায়ী টাকা না পেয়ে মেঘনা গ্রুপের সিমেন্টবাহী একটি গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এই দুর্বৃত্তরা। উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের জৈনপুর এলাকার মাহবুবুল ইসলাম সুমনের নেতৃত্বে চাঁদাবাজ চক্রটি পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি সিমেন্টভর্তি গাড়িতে হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হয় শ্রমিকদের মজুরির টাকা ও গাড়িভর্তি সিমেন্ট। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় মামলা হলেও আদালত থেকে জামিন নিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে আসামিরা। আবার দাবি করছে চাঁদা, দিচ্ছে হুমকি-ধমকি।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট দুপুরে উপজেলার জৈনপুর এলাকা হয়ে ২০০ বস্তা ফ্রেশ সিমেন্ট নিয়ে একটি পিকআপ মেঘনা ইকোনমিক জোনে নির্মাণাধীন একটি সাইটের দিকে রওনা হয়। পথে সেটি আটক করে দাবি করা হয় চাঁদা। টাকা না পেয়ে জৈনপুরের মফিজুল ইসলামের ছেলে সুমনের নেতৃত্বে মো. শুভ (২৮), মো. রাব্বী (২৮), আল-আমিন (৩০), মো. তানভীর (২৯), মো. সজিব (৩৫), মো. সবুজ (৩১), হোসেন মোল্লা (৩০), মাহফুজসহ (২১) ১০-১২ জন দা, চাপাতি, রড, লাঠিসোঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। একপর্যায়ে গাড়ির চালকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ও সিমেন্ট লুটে নেয় তারা।
গাড়িচালকের চিৎকারে নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিনিধি আবু সাইদ (৪৪) ও মো. সোপান (২০) এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করে হামলাকারীরা। এ ঘটনায় মেঘনা পাল্প অ্যান্ড পেপার লিমিটেডের এজিএম (প্রশাসন) আসাদুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই রাতে সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন। পরে জামিন নিয়ে অব্যাহতভাবে প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠানটির লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে আসামিরা। এমনকি মেঘনা গ্রুপের কোনো গাড়ি জৈনপুর হয়ে যেতে হলে গাড়িপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে দিতে হবে বলেও জানায়।
জৈনপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানালেন, সুমন একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ। তার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল চাঁদাবাজি করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে কোম্পানির লোকজনকে দেওয়া হয় হুমকি-ধমকি।
সুমনের বাড়িতে মাদক কারবার চলে উল্লেখ করে তারা যোগ করলেন, সেখানে মাদকের আসরও বসে। এর আগে ২০০৭ সালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ এলাকা থেকে ফেনসিডিল নিয়ে সোনারগাঁ আসার পথে সুমনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এ ঘটনায় ওই বছরের ৩০ জুলাই কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। সেই মামলায় সে দীর্ঘদিন জেলে ছিল। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মেঘনা গ্রুপের ঠিকাদাররা জানিয়েছেন, সরকার যেখানে মানুষের কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের অনুপ্রাণিত করছে, সেই সময়ে জৈনপুর এলাকায় চাঁদাবাজরা বেছে নিয়েছে শিল্পায়নে বাধাসহ চাঁদা, সন্ত্রাসবাদকে। মেঘনা গ্রুপের মামলার আসামিরা স্থানীয় পুলিশ পরিদর্শক, একাধিক এসআইসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। চাঁদাবাজদের হামলায় আহতদের জখমের ধরনও গুরুতর বলে সনদ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এই দুর্বৃত্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করেন তারা।
নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিনিধি আবু সাইদ অভিযোগ করে বলেছেন, মাদকসেবী ও চাঁদাবাজ সুমনের নেতৃত্বে টাকার দাবিতে কোম্পানির সিমেন্টবাহী একটি গাড়িতে হামলা চালানো হয়। তাদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে আমিসহ কোম্পানির পক্ষ থেকে কয়েকবার চাঁদা দেওয়া হয়েছে। নতুন করে আবার টাকা চেয়ে গাড়ি আটকে লুটপাট করেছে। এ ঘটনায় মামলা করায় আরও ক্ষুব্ধ হয়েছে তারা। তাদের হুমকিতে মেঘনা গ্রুপের নির্মাণাধীন সাইট বন্ধের উপক্রম হয়েছে। চাঁদাবাজ সুমনসহ তার চক্রকে দ্রুত গ্রেপ্তার না করলে নির্মাণ অব্যাহত রাখা অসম্ভব।
ঠিকাদারি প্রতিনিধি সোপান জানালেন, শুভ ও সুমন বাহিনীকে কয়েক দফায় কোম্পানির পক্ষ থেকে চাঁদা দেওয়া হয়েছে। ফের তারা মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছে। এসব চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার না করলে কোম্পানির কাজ সঠিকভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। নির্মাণকাজের শ্রমিকরাও চাঁদাবাজ সুমনের হুমকিতে ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারিকের ভাষ্য, চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জামিনে বের হয়ে হুমকি-ধমকি দেওয়ার চেষ্টা করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









