মাজার সংস্কারের টাকা লুটের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

তোয়াক্কুল সাহার মাজার। ছবি : আগামীর সময়
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌরসভার টেংগাপাড়া এলাকার ঐতিহাসিক তোয়াক্কুল সাহার মাজার সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নামমাত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রং করার কাজ ছাড়া সেখানে উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার হয়নি। তাদের দাবি, বরাদ্দের বিপরীতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার কাজও করা হয়নি। এ ঘটনায় প্রকল্পের পুরো অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও বিএনপি নেতা আল আমিন তালুকদার পায়েলের বিরুদ্ধে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (টিআর) আওতায় মাজার সংস্কারের জন্য ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকার বিশেষ বরাদ্দ থেকে এ অর্থ ছাড় করা হয়। প্রকল্পের সভাপতি করা হয় মোহনগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আল আমিন তালুকদার পায়েলকে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাগজপত্রে প্রকল্পের কাজ শেষ দেখানো হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। বরাদ্দের বিপরীতে সামান্য কিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রং করার কাজ করা হয়েছে।
মাজারসংলগ্ন মসজিদ কমিটির সদস্য আশরাফ উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কিছুদিন আগে মাজারের আগাছা পরিষ্কার করে একটু রং করা হয়েছে। এর বাইরে আর কোনো কাজ হয়নি। শুনেছি, মাজারে লাখ টাকার বেশি বরাদ্দ এসেছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী কোনো কাজ করা হয়নি।’
মাজারের তদারককারী রিপন মিয়া বলেন, ‘মাজারের কিছু আগাছা-জঙ্গল পরিষ্কার করেছে, আর চুন দিয়ে একটু রং করে দিয়েছে। মিনারের ভাঙা জায়গায় সামান্য সিমেন্ট লাগিয়েছে। ১ লাখ ১৬ হাজার টাকার প্রকল্পে ১৬ হাজার টাকার কাজও করা হয়নি।’
প্রকল্পের সেক্রেটারি হালিমকে কাজের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উল্টো ধমক দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন রিপন মিয়া। তার ভাষ্য, হালিম তাকে বলেছেন, ‘কত টাকার কাজ এসেছে, তোকে বলতে হবে কেন?’ মসজিদ ও মাজারের টাকা যারা আত্মসাৎ করেছেন, তাদের বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প কমিটির সভাপতি আল আমিন তালুকদার পায়েল বলেন, ‘মাজারের আশপাশে জঙ্গল ছিল, সেগুলো পরিষ্কার করে রং করিয়েছি। কয়েকটি পিলার ভাঙা ছিল, সেগুলো সংস্কার করেছি। কাজ ভালো হয়েছে বলেই তো অফিস বিল পরিশোধ করেছে।’
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) ওবায়দুল্লাহ খানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। কাজে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্নায়েল বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি অনিয়ম করে থাকলে, তিনি দলের হোন বা অন্য কেউ, প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারির অভাবেই সরকারি অর্থের এমন অপচয় হচ্ছে। শুধু তোয়াক্কুল সাহার মাজার নয়, বিশেষ বরাদ্দের আওতায় নেওয়া আরও কয়েকটি টিআর প্রকল্পের অবস্থাও একই রকম। গত জুনে এসব প্রকল্পের অর্থ তুলে নেওয়া হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি।
সরকারি অর্থের অপচয় রোধে প্রতিটি প্রকল্প সরেজমিন পরিদর্শন, ব্যয়ের হিসাব যাচাই এবং অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।




