রাজশাহী
পারিবারিক কবরস্থানে শেষনিদ্রায় সেনাসদস্য তাসনিম

ছবি: আগামীর সময়
কফিনবন্দি হয়ে ফিরেছিলেন তাসনিম রিফাত। যে বাড়ি থেকে একদিন দেশের দায়িত্ব পালনে বেরিয়ে গিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সেই বাড়ির পাশের মাটিতেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন তিনি।
স্বজনদের কান্না আর গ্রামবাসীর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামের পরিবেশ।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য (গানার) তাসনিম রিফাতের দাফন বৃহস্পতিবার দুপুরে সম্পন্ন হয়।
সামরিক ও সামাজিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে জানাজায় অংশ নেন পরিবারের সদস্য, স্বজন, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও হাজারো গ্রামবাসী।
বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে তাসনিমের মরদেহ রাজশাহী সেনানিবাসে আনা হয়। পরে সেখান থেকে সড়কপথে মরদেহ নেওয়া হয় তার গ্রামের বাড়ি বিন্দারামপুরে। কফিন বাড়িতে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। শেষবারের মতো তাসনিমকে দেখতে আশপাশের গ্রামের মানুষও ছুটে আসেন।
বাদ জোহর সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাসনিমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের সদস্য, স্বজন ও হাজারো গ্রামবাসী অংশ নেন। জানাজা শেষে সামরিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তাসনিমের বয়স হয়েছিল ২৮ বছর। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেজো। প্রায় ১২ বছর ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন তিনি। দেশের দায়িত্ব পালনের এই দীর্ঘ পথচলার শেষ হলো চট্টগ্রামের একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।
মৃত্যুকালে তাসনিম রেখে গেছেন স্ত্রী ও আড়াই বছরের একটি কন্যাসন্তান।
তিন বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাসনিমের মা। এবার কর্মক্ষম ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক বাবা আসাদুল ইসলাম। ছেলের শোকে ভেঙে পড়া এই বাবার কণ্ঠে এখন শুধু সন্তানের জন্য দোয়ার আকুতি।
আসাদুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। এখন আর চাওয়ার কিছু নেই। ছেলের জন্য সবার কাছে শুধু দোয়া চাই।’
এর আগে গতকাল বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় তাসনিম রিফাতসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই বিন্দারামপুরের বাড়িতে শুরু হয় শোকের মাতম। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে বাবা নির্বাক। স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী শোকাহত। আর আড়াই বছরের ছোট্ট মেয়েটি হারিয়েছে তার বাবাকে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই বাড়ি থেকেই শেষবারের মতো বিদায় নিলেন তাসনিম। এবার আর ফেরার অপেক্ষা নেই। বিন্দারামপুরের পারিবারিক কবরস্থানের মাটিই হলো তার শেষ ঠিকানা।






