নড়েচড়ে বসল পাউবো অপসারণ হচ্ছে পাইপ

ছবি: আগামীর সময়
খুলনার কয়রা উপজেলায় কপোতাক্ষ নদের বাঁধে পাইপ রেখে সংস্কারকাজ করার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পাউবোর নির্দেশনায় শুরু হয়েছে বাঁধের ভেতরে থাকা পাইপ অপসারণ। একই সঙ্গে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ধসে পড়া অংশসহ সংস্কারকাজের অন্যান্য ত্রুটিও ঠিক করার।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের দাবির পর পাইপ অপসারণ শুরু হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন তারা। তবে তাদের প্রত্যাশা, শুধু চারটি পাইপ সরিয়ে দায় শেষ না করে পুরো বাঁধকে টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণ এবং ভবিষ্যতে বাঁধের ভেতর দিয়ে আর কোনো পাইপ বসাতে না দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।
পাউবো সূত্র জানায়, সংস্কারকাজের আওতাধীন ২৪০ মিটার অংশে থাকা চারটি পাইপ অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সরানো হয়েছে দুটি। বাকি দুটি অপসারণের পর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আবার সংস্কার করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি সংস্কারকাজের অন্যান্য ত্রুটিও সংশোধন করা হবে। গত ২৯ ও ৩০ জুন আগামীর সময় পত্রিকায় ‘একদিকে সংস্কার, অন্যদিকে ধস’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর বিষয়টি নজরে আসে পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। তাদের নির্দেশে ৩ জুলাই স্থানীয় কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।
তবে কয়রা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল ইসলামের আশঙ্কা, দুই বিল মিলিয়ে সহস্রাধিক বিঘা জমিতে রয়েছে ছোট ছোট মৎস্যঘের। এসব ঘেরের ওপর বহু মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল। টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও স্লুইসগেটের মাধ্যমে বিকল্প পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে পাইপ তুলে দিলে ঘের মালিকরা পড়বেন ক্ষতির মুখে। অবশ্য স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অতীতে একাধিকবার বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে আশপাশের কয়েকটি গ্রাম। শুধু সংস্কারাধীন অংশের চারটি পাইপ নয়, প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে থাকা আরও ৩০-৪০টি পাইপও পর্যায়ক্রমে অপসারণ করা প্রয়োজন। তাহলেই নিশ্চিত হবে বাঁধের স্থায়িত্ব।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পলাশের ভাষ্য, পাইপ অপসারণের পর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আবার সংস্কার করা হবে এবং মান বজায় রেখেই শেষ করা হবে বাকি কাজ।
খুলনা পাউবো-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহির মাজহার জানালেন, আপাতত অপসারণ করা হচ্ছে সংস্কারাধীন অংশে থাকা চারটি পাইপ। ওই এলাকার অন্য পাইপগুলো অপসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পরে। ‘কাজের মান নিয়ে যাতে কোনো প্রশ্ন না ওঠে, সে বিষয়ে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ নজর। বাঁধের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে পর্যায়ক্রমে’— আশ্বস দেন তিনি।




