সাফারি পার্কে মারামারি, কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দর্শনার্থীর মামলা

গাজীপুরের সাফারি পার্কে কিশোর দর্শনার্থীর সঙ্গে কর্মচারীদের হাতাহাতির ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি।
গাজীপুরের সাফারি পার্কে ‘আবর্জনা’ নিয়ে কর্মচারী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। কর্মচারীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগে শ্রীপুর থানায় মামলা করেছেন দর্শনার্থী সালমা হোসেন। আসামি করেছেন ছয়জনকে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম আজ রবিবার জানিয়েছেন এসব তথ্য।
গতকাল শনিবার দুপুরের এই ঘটনায় আহত হয়েছেন দুইপক্ষের ছয়জন। তারা হলেন, রাজধানীর নতুন বাজার এলাকা থেকে ঘুরতে যাওয়া সালমা হোসেন (৪৪), তার দুই কিশোর ছেলে, তাদের গাড়িচালক মো. রাসেল (২৫), পার্কের আউটসোর্সিং কর্মচারী মো. মোমিন ও মো. মাসুদ রানা। তারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার পরপরই পার্কের আউটসোর্সিং কর্মচারী মো. ফরহাদকে বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।
দর্শনার্থী সালমা হোসেন জানান, দুই ছেলেকে নিয়ে শনিবার দুপুরে গাজীপুর সাফারি পার্কে যান। পার্কের বাসের ভেতর ময়লা ও আবর্জনা থাকায় তা পরিস্কার করতে বলেন কর্মচারীদের।
সালমার অভিযোগ, পার্কের কর্মচারীরা এ নিয়ে তাদেরকে গালমন্দ করলে তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে স্টিলের রড দিয়ে মারধর করা হয় তার দুই ছেলে ও তাদের গাড়িচালককে। তার সঙ্গে থাকা ৩ ভরি স্বর্ণের চেইন ও ৮০ হাজার টাকা এসময় খোয়া যায় বলেও অভিযোগ সালমার।
তবে সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তারেক রহমানের পাল্টা অভিযোগ, বাসে ময়লা থাকা নিয়ে পার্কের এক কর্মচারীর সঙ্গে তর্কের জেরে ওই নারীর এক ছেলে মারধর শুরু করে। পরিবারটিকে পার্ক অফিসে নিতে চাইলে তারা ফের উত্তেজিত হয়ে কর্মচারীদের ওপর হামলা করেন।
এ বিষয়ে থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও গতকাল জানিয়েছিলেন তারেক।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম. কে. এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী বলেছেন, ‘আমাদের মো. মুমিন নামের একজন স্টাফকে মেরে আহত করা হয়েছে। তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আমাদের কর্মচারীদের মারধর করায় বাসে থাকা ওই পর্যটকদের পার্ক অফিসে আনা হয় আলোচনার জন্য। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে আবার হাতাহাতি হয়।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানালেন, পুলিশ ঘটনাস্থল গতকাল পরিদর্শন করেছে। দর্শনার্থী সালমা হোসেন আজ থানায় মামলা করেছেন। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








