লাউয়াছড়ায় পানির সংকট, বিপাকে বন্যপ্রাণী

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বানর— সংগৃহীত
তীব্র দাবদাহে মৌলভীবাজারের চিরহরিৎ বন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জীববৈচিত্র্য মারাত্মক সংকটে। কাঠফাটা রোদ ও প্রচণ্ড গরমে বনের ভেতরের ছড়া ও জলাশয়গুলো শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম। ফলে সুপেয় পানির সংকটে পড়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী। পানির খোঁজে অনেক প্রাণী লোকালয়, রেললাইন ও সড়কের পাশে চলে আসছে। এতে সড়ক দুর্ঘটনা ও শিকারিদের কবলে পড়ার ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ঘুরে দেখা গেছে, বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট-বড় ছড়াগুলোর পানি প্রায় তলানিতে ঠেকেছে। এসব ছড়াই ছিল বন্যপ্রাণীদের সুপেয় পানির প্রধান উৎস। পানির অভাবে বানর, হনুমান, চশমাধারী হনুমান, মায়া হরিণ এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি চরম দুর্ভোগে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমে কিছুটা শীতল পরিবেশ ও পানির সন্ধানে তারা বনের গভীর ছায়াঘেরা অংশ ছেড়ে লোকালয় কিংবা বনের মধ্য দিয়ে যাওয়া রেললাইন ও সড়কের আশপাশে চলে আসছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুপুরের দিকে বনের বানর ও হনুমানগুলোকে পানির জন্য ছটফট করতে দেখা যায়। অনেক সময় তারা বনের সীমান্তবর্তী চা-বাগান কিংবা মানুষের বাড়িঘরের টিউবওয়েলের আশপাশে চলে আসে।
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লাউয়াছড়ার মতো ঘন বনেও এখন তীব্র দাবদাহ অনুভূত হচ্ছে। বনের ভেতরে প্রাকৃতিকভাবে পানি ধরে রাখার সক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ছড়াগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। দ্রুত বনের ভেতরে কৃত্রিম জলাশয় তৈরি বা বন্যপ্রাণীদের জন্য বিকল্প পানির ব্যবস্থা না করলে অনেক বিরল প্রজাতির প্রাণী পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী মো. নাজমুল হক বলেছেন, ‘তীব্র গরমের কারণে বনের ভেতরের পানির উৎসগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, এটি সত্য। বন্যপ্রাণীদের এই কষ্ট লাঘব করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বনের বিভিন্ন পয়েন্টে পানি ধারণের জন্য পুকুরের ব্যবস্থা এবং ভরাট হয়ে যাওয়া ছড়াগুলো সংস্কার করা গেলে পানি সংকটের সমাধান হয়ে যাবে। এছাড়া বন্যপ্রাণী যেন পানির খোঁজে লোকালয়ে এসে কোনো বিপদে না পড়ে, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক দৃষ্টি রাখছি।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, টানা বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের এই সংকট কাটার সম্ভাবনা কম। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে মৌলভীবাজারের সমৃদ্ধ রেইনফরেস্টের বন্যপ্রাণীরা এখন এক পশলা বৃষ্টির অপেক্ষায় দিন গুনছে।





