চিকিৎসক-জনবল সংকটে শার্শা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

শার্শা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: আগামীর সময়
যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলার শার্শা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও জনবল সংকট চলছে। এতে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চার লক্ষাধিক মানুষ। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালটি উপজেলার সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রধান ভরসা। তবে এখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য কর্মচারীর অভাবে ব্যাহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রম।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম শ্রেণির জুনিয়র কনসালটেন্টের অনুমোদিত ১৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। শূন্য ৯টি পদ। ১৯টি মেডিকেল অফিসার পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ১৩ জন। শূন্য ছয়টি পদ। দ্বিতীয় শ্রেণির ২৫টি পদ পূর্ণ থাকলেও তৃতীয় শ্রেণির ৮০টি পদের মধ্যে কর্মরত ৩৬ জন। শূন্য ৪৪টি পদ। চতুর্থ শ্রেণির ১৯টি পদের বিপরীতে আউটসোর্সিংসহ কর্মরত ১৩ জন। এ শ্রেণিতেও শূন্য পদ ছয়টি।
সরেজমিন দেখা গেছে, হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন শত শত রোগীর ভিড় থাকে। চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগীকে যশোর জেনারেল হাসপাতাল কিংবা খুলনায় রেফার করা হচ্ছে।
হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের সংকট থাকায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও ব্যাহত হচ্ছে। আয়া, ওয়ার্ডবয় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর স্বল্পতায় ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েকটি ওয়ার্ডে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং কিছু সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতাও দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত দুটি আধুনিক অপারেশন থিয়েটারও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে দীর্ঘদিন পুরোপুরি চালু করা যায়নি। বিশেষজ্ঞ সার্জন ও অ্যানেসথেসিস্টের সংকটে ওটি দুটি নামমাত্র চালু রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সে অনুযায়ী চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
তবে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর অভিযোগ, হাসপাতালে হাতে গোনা কয়েকজন চিকিৎসক থাকলেও রোগী গেলে তাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ওই বেসরকারি হাসপাতালটি বিএনপির এক নেতার মালিকানাধীন বলেও তারা অভিযোগ করেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌফিক পারভেজ বলেছেন, হাসপাতালে চিকিৎসক ও জনবলের সংকট দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অ্যানেসথেসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ঘাটতির কারণে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।




